ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
বাংলাদেশ হবে এক নম্বর এডুকেশন হাব, পৃথিবীর সবাই আসবে: শিক্ষামন্ত্রী
✎ অবজারভার প্রতিনিধি
⏲ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৪ পিএম আপডেট: ১৮.০৭.২০২৬ ৫:৩৫ পিএম
X

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, “এই বাংলাদেশ হতে হবে এডুকেশনাল হাব। এই বাংলাদেশে পৃথিবী থেকে লোকজন পড়তে আসবে। সেই আদলের ইউনিভার্সিটি আমরা বানাচ্ছি। আমরা জানি, বাংলাদেশের ছাত্ররা মেধাবী। বাংলাদেশের প্রতিটি ছাত্র যারা বাইরে পড়তে গিয়েছে, তারা অত্যন্ত সুনাম অর্জন করেছে। এখনও হিসেব করে দেখা যায়, ডিস্টিংশন পায় ওই বাংলাদেশি ছেলেমেয়েরাই বিদেশে বসে। তাহলে আমরা কেন পারব না এই এডুকেশন হাব করতে? আমরা কেন পারব না? ৪০ বিলিয়ন ডলারের বিজনেস করতে চায় ব্রিটিশ ইউকে, আমরা কেন পারব না ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিজনেস করতে এই বাংলাদেশে? এটাই তো আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।”

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন ও নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি শহরের বরুনকান্দি মোড় এলাকায় অবস্থিত নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নামফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, “এই যে নওগাঁ ইউনিভার্সিটির পেছনে ইনভেস্টমেন্ট হবে, ইউ সি কী বিউটিফুল ইউনিভার্সিটি। আমি স্পষ্ট বলতে পারি, এই মঞ্চে যারা বিদেশ যাওয়ার জন্য লেখাপড়া করতেন, এই ধরনের প্রসপেক্টাস দেখে কত না সুন্দর লাগত! কবে আমরা ওই ধরনের ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে পড়ব, ওই পরিবেশে আমরা থাকব—এই চিন্তাগুলো আমাদের কল্পনায় ছিল। আজকে আমরা সেই ইউনিভার্সিটি করতে চাচ্ছি।

আমি আবারও বলছি, গ্লোবালি বাংলাদেশি জনসংখ্যা বাড়ছে এবং বাংলাদেশের জনগণ সবাই এডুকেশনে ইনভেস্টমেন্ট করছে। তাহলে দেখা যাবে, আমরা হয়তো এই পৃথিবীতে থাকব না, কিন্তু আজ থেকে ১০-১৫ বছর পরে যেই ভিশন নিয়ে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এডুকেশন সেক্টরকে আপলিফট করার জন্য কাজ করছেন, ‘দ্যাট ডেইজ আর নট টু ফার’—যে পৃথিবীতে বাংলাদেশ হবে এক নম্বর সেন্টার অব এক্সিলেন্স, এডুকেশন হাব। পৃথিবীর সবাই আসবে এই জায়গায়।”

এইচএসসি পরীক্ষা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, “আমরা এসেছি চার মাস। আমরা তো দুই বছরের জন্য নতুন মডারেটর, নতুন কোশ্চেন সেট করিনি। আমরা করব। এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে হয়েছে, এইচএসসি পরীক্ষাও সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে। অতএব, এই মডারেশন, কোশ্চেন-আনসার—এগুলো আমরা করব। এটাকে ইন্টারপ্রেট করল, ‘ওহ, দুই বছর আগে এইচএসসি কোশ্চেন হয়েছে?’ এইটা নিয়ে ক্যাচাল শুরু হলো। আমি বলেছি, দুই বছর লাগে ট্রেনিং করতে।”

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভাইরাল হওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “সিটি কলেজ থেকে এক মেয়ে বারবার আমার পিওকে কল করছে, ‘স্যারকে একটু কথা বলতে দেন না।’ তো ভাবলাম, বাচ্চা মেয়ে কল করেছে। এই বৃষ্টিতে ভিজে এসে পরীক্ষাটা দিয়েছে। আবার জিজ্ঞেস করল, ‘স্যার, পরীক্ষাটা পিছনে যাবে না?’ বললাম, ‘দেখ, পরীক্ষাটা আমরা নেই জনপ্রশাসন, আমাদের অ্যাডমিনিস্ট্রেশন—সকলকে মিলে। এটা হুট করে চেঞ্জ করা যায় না। তবে আমি বিকেল ৫টা পর্যন্ত মেট্রোলজিস্টের সঙ্গে, ওয়েদার ম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছে, কোনো বৃষ্টি হবে না। সেই জন্য আমরা পরীক্ষাটা নিচ্ছি।’

কিন্তু দেখা গেল, সকালবেলা বৃষ্টি হয়েছে। কোথায় হয়েছে? সারা দেশেই হালকা বৃষ্টি হয়েছে। কোথায় জলাবদ্ধতা হয়েছে? একটি মাত্র সেন্টারে, সেটা হলো কুমিল্লা মহিলা কলেজ। এবং আমাদের নিয়ম রয়েছে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া হলে ওই এলাকার ইউএনও, ডিসি—তারা ওই কেন্দ্র বন্ধ করবেন কি করবেন না, সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। তারা ইচ্ছা করলে বন্ধ করে দিতে পারেন, কারণ আমাদের সেকেন্ড সেট কোশ্চেন রয়েছে। কারণ ঢাকায় বসে সারা বাংলাদেশ তো দেখা যায় না।

আমি যখন সকাল ৯টায় দেখলাম যে কুমিল্লা মহিলা কলেজ বন্যার জলে ভেসে যাচ্ছে, অর্থাৎ জলাবদ্ধতা, তখনই আমি ইমিডিয়েটলি বোর্ডকে বললাম, ওখানে যান। পরীক্ষা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেন। এক ঘণ্টা পরে পরীক্ষা নেবেন এবং তাদের আধা ঘণ্টা অ্যাডিশনাল টাইম দেবেন, যেহেতু তাদের অনেকটা সময় নষ্ট হয়েছে। অর্থাৎ তিন ঘণ্টার পরীক্ষা সাড়ে তিন ঘণ্টা দেবেন।

পরীক্ষা বন্ধ করার দায়িত্ব কিন্তু ওই এলাকার অথরিটির। তারা করেনি। সারা বাংলাদেশে এটা হয়েছে, কিন্তু একটি সেন্টারে বৃষ্টি হয়েছে। একটি সেন্টার বাদে আপনারা দ্বিতীয় কোনো সেন্টার দেখাতে পারবেন না। ঢাকা শহরে বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা হয়—এটা একটা কমন টার্মিনোলজি, এটা কোনো নতুন ব্যাপার না।

মেয়েটি আমাকে জিজ্ঞেস করল, ‘স্যার, বৃষ্টির মধ্যে পরীক্ষা দিলেন আমাদের?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ, আমি জানি বৃষ্টি হয়েছে। আমি তোমাদের নিয়ে খুব চিন্তিত।’ সেই সঙ্গে বললাম, ‘আমার মেয়ে তানজিদা—ওর মাথায় একটু বৃষ্টির পানি পড়লেই জ্বর আসে ফার্মের মুরগির মতো। সেই জন্য আরও বেশি চিন্তা করছি, তোমাদের জ্বর আসে কি না। সেই জন্য আমি খুব উদ্বিগ্ন। যেটা হয়েছে তো হয়েছে। জ্বর আসে কি না। কিন্তু কী করা যাবে? আমাদের পরীক্ষা তো সকলের সঙ্গে কথা বলে বলতে হয়। সকলেই বলেছে, পরীক্ষা নেওয়া যাবে। তো লক্ষ্মী মা, পরীক্ষাটা দিয়ে দাও। মাকে বলো, এক কাপ কফি বানিয়ে দিতে। পড়ার টেবিলে বসে যাও।’

ইউ সি শিক্ষার্থীরা তারা এই ধরনের একটা ন্যারেটিভ, এই ন্যারেটিভটাকে তারা নেগেটিভে নিয়ে গেল। ইউ সি জাতি যদি এইভাবে অন্ধকানা হয়ে যায়, তাহলে তো আমাদের ভবিষ্যৎ ভালো হবে না। কিভাবে আমাকে নিয়ে ট্রোল শুরু হলো। যারা ট্রোল করতে শুরু করল, তারাও পরীক্ষার্থী না। আমি তো ঢাকা শহরের আইডিয়াল কলেজ বা ল্যাবরেটরি স্কুল বা ভিকারুননিসা—আমি তো কাউকে দেখিনি আন্দোলন করতে। না, কেউ আন্দোলন করতে আসেনি। এইভাবে আন্দোলন করে মিসগাইডেড করে কী একটা হ্যাভক সৃষ্টি করল।”

নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, নওগাঁ-২ আসনের সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, নওগাঁ-৩ আসনের সাংসদ ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ আসনের সাংসদ ইকরামুল বারি টিপু, নওগাঁ-৫ আসনের সাংসদ জাহিদুল ইসলাম ধলু, নওগাঁ-৬ আসনের সাংসদ শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

প্রসঙ্গত, হিসাববিজ্ঞান ও আইন বিভাগে ৪০ জন করে মোট ৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলো নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের।

কেকেএইচ/এসআর


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝