কারাবন্দি ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক সেলিম প্রধানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন করেছেন তার পরিবার ও স্বজনরা। তারা অভিযোগ করেছেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একের পর এক মামলায় জড়িয়ে তাকে কারাগারে রাখা হচ্ছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সেলিম প্রধানের বোন স্মৃতি প্রধান। তিনি দাবি করেন, তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক।
স্মৃতি প্রধান বলেন, “আমার ভাইকে বারবার মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। তিনি একজন ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক, সবসময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।”
তিনি আরও জানান, ছোটবেলা থেকে জাপানে বেড়ে ওঠা সেলিম প্রধান দেশে ফিরে রূপগঞ্জ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেন। তবে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে নানা বাধা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্মৃতি প্রধান অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকার আমলে সেলিম প্রধানকে মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ সময় কারাগারে রাখা হয় এবং রিমান্ডে নির্যাতন করা হয়। বর্তমানে আবার নতুন করে বিভিন্ন মামলায় তাকে জেলগেটে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, “একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পরও একাধিকবার তাকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। এমনকি কোনো মামলায় আসামি না হয়েও অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।”
এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিষয়টি বিবেচনা করে সেলিম প্রধানকে মুক্তি দেওয়া এবং এর পেছনে জড়িতদের চিহ্নিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
মানববন্ধনে পরিবারের সদস্য রিয়াদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর দেশে ফিরে সেলিম প্রধান ব্যবসা ও সমাজসেবায় যুক্ত হন। কিন্তু দেশে ফেরার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও তাকে রাজনৈতিকভাবে টার্গেট করে কারাগারে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি তার ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষরা প্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আরেক সদস্য মহিবুর রহমান জয় বলেন, অতীতে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর কোনোটি প্রমাণিত হয়নি। “আমাদের একটাই দাবি—সেলিম প্রধানের নিঃশর্ত মুক্তি,” বলেন তিনি।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা সংবিধান অনুযায়ী সব নাগরিকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।
এসআর