জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় মাহে রমজানও মানছে না জুয়াড়িরা। প্রতিদিন চলছে জুয়ার জমজমাট আসর। পাশাপাশি জুয়া ঘিরে সমানতালে চলছে মাদক সেবন ও বেচাকিনি।
জুয়া নিরোধে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশী অভিযান না থাকায় জুয়াড়িরা পবিত্র মাহের রমজানও মানছে না। এসব নিয়ন্ত্রণে কতিপয় জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, জুয়া খেলার নেশায় মত্ত হয়ে অনেকে যেমন সর্বশান্ত হচ্ছে, পাশাপাশি বিপথগামী হচ্ছে যুবসমাজ।
উপজেলার চর পুটিমারী ইউনিয়নের সাজলের চর ব্রীজের দক্ষিণ পার্শ এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে জুয়া খেলার আসর বসিয়ে আসছে পেশাদার জুয়াড়িরা। সন্ধ্যা হলেই বিভিন্ন জায়গা থেকে জুয়ারীরা এসে জড়ো হন আনন্দ বাজার এলাকায়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা জুয়াড়িদের আগমনে প্রতিদিন হাত বদল হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। জুয়া খেলার টাকা জোগাতে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে চলমান জুয়ার আসর নিয়ে এ অঞ্চলের অভিভাবকরা উদ্ধিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, জুয়ারি সম্রাট হিসেবে পরিচিত উপজেলার চর গোয়ালীনি ইউনিয়নের কান্দার চর গ্রামের মো. নূরনবী। সম্প্রতি তিনি ওমরা হজ্বে গেলেও তার ইশারায় একই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মাতবর শেখ, নিপন মিয়া, মুছা শেখ, ডিগ্রীর চর গ্রামের মিস্টার আলীসহ অন্যরা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে জুয়া, তাস, কড়ি ও ডাব্বু পরিচালনা করছে। অসাধু চক্রটি দীর্ঘদিন জুয়ার কারবার চালিয়ে যাওয়ায় এলাকার সাধারণ ব্যবসায়ী ও উঠতি বয়সের যুবকদের মধ্যে নানা প্রতিকূল প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে এই ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় প্রতিনিয়ত বেড়ে চলছে চোরের উপদ্রব।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকা একটি সংঘবদ্ধ শক্তিশালী সিন্ডিকেট অনৈতিক ভাবে জুয়ার বোর্ড পরিচালনা করছে। দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকার উঠতি যুবক, আলোচিত জুয়াড়িরা এখানে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। জুয়া খেলায় প্রতিদিন এ চক্রের ফাঁদে পড়ে অনেকেই টাকা খুইয়ে নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছেন। জুয়াকে কেন্দ্র করে এ স্পটে নেশা গ্রহণও চলে সমান তালে।
এ বিষয়ে এলাকার সচেতন জনগণ তাদের উদ্বেগ ও আশংকার কথা জানিয়ে প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইসলামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ কাইয়ুম গাজী বলেন,্বি'ষয়টি আমরা জেনেছি। খোঁজখবর রাখছি, দ্রুতই অভিযান করা হবে।'
এলএইচ/এমএ