কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়ন বিএনপির একটি কার্যালয়ে অতর্কিত হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
রোববার (৩১ মে) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পিয়ারপুর গ্রামের মোঃ নুরুল ইসলামের বাড়ির সামনে অবস্থিত বিএনপি অফিসে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে স্থানীয় দুই বিএনপি নেতার বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে। এ বিষয়ে মামলার প্রক্রিয়া চলমান বলে পুলিশ জানায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পিয়ারপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা জহুরুল করিম বিশ্বাস এবং উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান মুনতাজের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। রোববার রাতে পিয়ারপুর গ্রামের মোঃ ফুরকান কসাই (৫৬), এছেম (৫১) ও ফিরোজ (৪৯) সহ মুনতাজের ৮-১০ জন কর্মী-সমর্থক দলীয় কার্যালয় ও সংলগ্ন চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এসময় ৮-১০ জনের একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিতভাবে কার্যালয়টি লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করে। বিকট শব্দে ককটেলগুলো বিস্ফোরিত হলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হামলায় আহত পিয়ারপুর এলাকার রহমত মণ্ডলের ছেলে মো. ফুরকান কসাই, হাজেদ্দিনের ছেলে মো. এছেম এবং আতর আলী কবিরাজের ছেলে মো. ফিরোজকে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও এলাকায় নজরদারি অব্যাহত রেখেছেন।
পুলিশের একটি সূত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জহুরুল করিম বিশ্বাস ও মনিরুজ্জামান মুনতাজের মধ্যে বিরোধের জের ধরেই রোববার রাতে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে মনিরুজ্জামান মুনতাজ বলেন, এই হামলার সাথে জহুরুল করিম বিশ্বাস ও তার লোকজন সরাসরি যুক্ত। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সাবেক চেয়ারম্যান জহুরুল করিম বিশ্বাস ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা (মুনতাজ ও তার লোকজন) নিজেরাই নিজেদের অফিসে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আমার ও আমার লোকজনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে। এই ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, পিয়ারপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার বা পূর্ব বিরোধের জেরে একটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে দুইটি ককটেল বিস্ফোরণের আলামত সংগ্রহ করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। মামলার পর তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে সোমবার বিকেলে বিএনপি নেতা সাবেক চেয়ারম্যান জহুরুল করিম বিশ্বাস তার বিরুদ্ধে আনিত মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
এসআই/আরএন