ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
পেকুয়ায় পায়ে ধরেও থামেনি পাহাড়কাটা, ভূমিধসের ঝুঁকিতে তিন পরিবার
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:২১ পিএম
X

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের জালিয়ার চাং গর্জনীয়া পাড়ায় প্রকাশ্যেই দিন-রাত পাহাড় কেটে মাটি পাচারের অভিযোগ উঠেছে। অব্যাহত পাহাড় কাটার ফলে তিনটি পরিবার চরম মৃত্যুঝুঁকিতে পড়েছে। পাহাড় ধস ও ভূমিধসের আশঙ্কায় আতঙ্কিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।

স্থানীয়রা জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন রাতেই পাহাড় থেকে মাটি সরে যাওয়ার শব্দ শোনা যাচ্ছে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে ভয়াবহ আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট স্কেভেটর (মাটি কাটার ভারী যন্ত্র) ব্যবহার করে পাহাড় কেটে মাটি পাচার করছে। প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই এই অবৈধ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলো হলো—আবদুল খালেক, আবদুল মালেক ও মোহাম্মদ সুইয়াবের পরিবার। পাহাড় কাটার ফলে তাদের বসতঘরের চারপাশের মাটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় ভূমিধসে ঘরবাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়তে পারে—এই আশঙ্কায় তারা চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওমানপ্রবাসী আমান উল্লাহসহ আবু তাহের, বাচ্ছু, শাহাদাত ও ইসমাইল নামে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরেই তাদের বিরুদ্ধে পাহাড় নিধনের অভিযোগ থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তারা।

আরও অভিযোগ করা হয়, স্থানীয় দালাল অলী আহমদের মাধ্যমে ‘ম্যানেজ’ হয়ে টইটং বনবিটের কর্মকর্তা মো. এহেসান অঘোষিতভাবে পাহাড় কাটার সুযোগ করে দিচ্ছেন। ফলে প্রকাশ্যেই পাহাড় কাটা হলেও তা বন্ধে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গর্জনীয়া পাড়ায় বিশাল আকৃতির একটি পাহাড় কেটে প্রায় সাবাড় করে ফেলা হয়েছে। একটি স্কেভেটর গাড়ি সেখানে অবস্থান করছে। পাহাড়ের বুক চিরে সরু রাস্তা তৈরি হয়েছে, যার দুই পাশে তিনটি পরিবার একপ্রকার ভাঙনের কিনারায় বসবাস করছে।

ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সুইয়াব বলেন, “জালিয়ার চাংয়ের এই পাহাড়টি বহু বছরের পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী। স্থানীয়ভাবে একে ‘আসমানের খুঁটি’ বলা হয়। আল্লাহর সৃষ্টি এই পাহাড় কেটে ফেলায় আমরা আজ চরম ঝুঁকিতে। প্রতিবাদ করলেই পাহাড়খেকোদের পক্ষ থেকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।”

অপর ভুক্তভোগী আবদুল খালেকের স্ত্রী জানান, পাহাড়টি এমনভাবে কাটা হয়েছে যে যেকোনো মুহূর্তে তাদের ঘর ধসে পড়তে পারে। নিরাপদ দূরত্ব রেখে পাহাড় কাটার অনুরোধ জানালে উল্টো অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। “পায়ে ধরেও পাহাড় কাটা বন্ধ করতে পারিনি,” বলেন তিনি।

ভুক্তভোগীরা জানান, বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে তাদের ক্ষোভ ও হতাশা আরও বেড়েছে। নিজেদের জীবন রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান বলেন, “আমি টইটং বিট কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি খোঁজ নেব। যদি এটি আমাদের রিজার্ভ বনভূমির আওতাভুক্ত হয়, তাহলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এনইউ/এসআর


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝