মাদারীপুর সদর উপজেলার চরমুগরিয়া এলাকার কুমার নদে সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ৩ বছরে। কিন্তু প্রায় ৪ বছর অতিবাহিত হলেও সেতুটি এখনও প্রস্তুত হয়নি। বর্তমানে কাজ চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে শেখ হাসিনা সরকার পরিবর্তনের পর ঠিকাদার পালিয়ে যান, তারপর থেকে সেতু নির্মাণে তেমন অগ্রগতি হয়নি। ফলে স্থানীয়দের ডিঙি নৌকা ব্যবহার করে নদ পার হতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য কঠিন ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বাজেটে ২০২২ সালের ১৬ আগস্ট মাদারীপুরের চরমুগরিয়া এলাকায় কুমার নদে সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কাজটি শুরু করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার টিএস রোড এলাকার ‘হাসান এন্টারপ্রাইজ’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। মূলত ২০২৫ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পরিবর্তনের পর ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ায় কাজের অগ্রগতি অনেক ধীর হয়ে যায়।
নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ায়। বর্তমানে কাজ শেষ হওয়ার নতুন সময়সীমা ২০২৬ সালের জুন। কিন্তু সত্ত্বেও নির্মাণ কাজের অগ্রগতি খুবই কম।
স্থানীয়দের মতে, এই সেতুটি নির্মাণ হয়ে গেলে চরমুগরিয়া এলাকা শিরখাড়া, দুখখালী, বাহাদুরপুর ও পেয়ারপুর ইউনিয়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে। সড়কপথের দূরত্ব প্রায় দেড় কিলোমিটার কমবে। তবে এখন স্থানীয়রা প্রতিদিন শহরে আসার জন্য ছোট্ট ডিঙি নৌকা ব্যবহার করতে বাধ্য। এতে তাদের ভোগান্তি বেড়েছে।
স্থানীয় সামিয়া আক্তার বলেন, “আমি শহরে থাকি, কিন্তু আমার মা পেয়ারপুরে থাকেন। তাই প্রায়ই চরমুগরিয়া হয়ে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যাই। সেতু নির্মাণ শেষ না হওয়ায় আমাদের প্রায় দেড় কিলোমিটার বেশি পথ হেঁটে যেতে হচ্ছে। সেতু দ্রুত নির্মাণের দাবি করছি।”
একইভাবে স্থানীয় শিক্ষার্থী হিরামনি বলেন, “কুমার নদ পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। রাস্তা ঘুরে হেঁটে যাওয়া অনেক সময় নেয়। তাই এখন ডিঙি নৌকা ব্যবহার করি। দ্রুত সেতুর কাজ শেষ হলে আমাদের ভোগান্তি কমবে।”
মাদারীপুরের এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কীর্ত্তনীয়া বলেন, “চুক্তিবদ্ধ ঠিকাদার পলাতক থাকায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি। তাই আরও এক বছর কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা চলছে। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।”
এএইচ/আরএন