সাভারের আশুলিয়ায় অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা সদস্যের বসত বাড়িতে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি আওয়ামী লীগ নেতা আতিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃসহস্পতিবার দুপুরে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এর আগে বুধবার রাতে আশুলিয়া থানার দক্ষিণ গাজীরচট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আতিকুর রহমান (৩৭) ধামসোনা ইউনিয়নের দক্ষিণ গাজীরচট শের আলী মার্কেট এলাকার বাসিন্দা হাসমত আলীর ছেলে। তিনি ধামসোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক।
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মোঃ ফজলুল হকের দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে ফজলুল হক দক্ষিণ গাজীরচট এলাকায় জমি ক্রয় করে বাড়ি নির্মাণের পর থেকে পরিবারসহ সেখানে বসবাস করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে আতিকুর রহমান ও তার সহযোগীরা তার জমি ও বাড়ি দখলের উদ্দেশ্যে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ জানুয়ারি সকালে আতিকুর রহমান ও তার ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহীনির সদস্যরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ওই সেনা সদস্যের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালায়। তাদের মারধরে সেনা সদস্য ফজলুল হকসহ তার স্ত্রী, মেয়ে ও পুত্রবধূ আহত হন।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা বাড়ির চারপাশে স্থাপিত চারটি সিসিটিভি ক্যামেরা, দোকানের সামনে থাকা চারটি বৈদ্যুতিক মিটার (হিসাব নম্বর- ১৫৪৪৭৩১, ১৫৮৩১৫১, ২৫৮৮০৯১, ২৫৮৮০৮১) এবং একটি সাবমার্সিবল মোটর ভাঙচুর করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে আবারও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করা হয়।
পরে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও বিশ্লেষণ করে আতিকুর রহমানসহ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক তথ্য পায় পুলিশ। এঘটনায় মামলা দায়েরের পর বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে আতিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, “অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা সদস্যের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ওএফ/এসআর