বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, এবার আর যেনতেন নির্বাচন মেনে নেওয়া হবে না। ১৪, ১৮ ও ২৪ মার্কা নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। যারা এ ধরনের অপকর্মের চিন্তা করবে, তাদের জন্য আমাদের স্পষ্ট বার্তা—মানুষ রক্ত দিয়ে পরিবর্তন এনেছে। আবার প্রয়োজনে রক্তের বিনিময়ে পরিবর্তনকে সফল করবো ইনশাল্লাহ। এক্ষেত্রে এ জাতি কাউকে ছাড় দেয়নি, আমরাও দেবো না।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় খুলনার লাইন বিল পাবলা পূজা মন্দিরে এলাকার হিন্দু ধর্মাবলম্বী সদস্যদের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ছাত্র-জনতা অতীতে যেমন বুক চিতিয়ে লড়াই করে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য এগিয়ে গিয়েছিল, আগামীতেও সেই অধিকার আদায়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের লড়াই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে। এই ফ্যাসিবাদ পুরোনো হোক আর নতুন—আমাদের লড়াই চলবে। যতদিন ফ্যাসিবাদের অস্তিত্ব থাকবে, ততদিন আমাদের লড়াই চলবে।
স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, কিশোর, তরুণ ও যুবক—ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এমন এক দেশ রেখে যেতে চাই, যেন তারা শান্তিতে নিশ্বাস নিতে পারে। চাঁদাবাজমুক্ত ও দখলবাজমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে আল্লাহর আইন ও সৎ লোকের শাসনের বিকল্প নেই। আমরা সবাইকে আল্লাহর আইনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আগামী নির্বাচনে ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করে সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
হিন্দু কমিটির সদস্য কুমারেশ কুমার মণ্ডলের সভাপতিত্বে এবং শ্রীদাম কুমার মণ্ডলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস এবং জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন গুটুদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তুহিনুল ইসলাম, হরিণটানা থানা আমীর মাওলানা আব্দুল গফুর, লিটন হোসেন, দিবাশীষ মল্লিক প্রমুখ।
এর আগে বিকেল ৪টায় ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খামারবাড়ীতে হিন্দু ধর্মাবলম্বী সদস্যদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওয়ার্ড ইউপি সদস্য রিপন সরকারের সভাপতিত্বে ও আশরাফ হোসেনের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ সমাবেশেও প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, আড়ংঘাটা থানা আমীর মাওলানা মনোয়ার আনসারী, হরিণটানা থানা আমীর মাওলানা আব্দুল গফুর, ১৩ নম্বর গুটুদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তুহিনুল ইসলাম, সাবেক ইউপি সদস্য নিহির কান্তি সরকার, নারায়ণ সরকার, মাস্টার অমল কুমার সরকার প্রমুখ।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ইসলামই একমাত্র ধর্ম যা সকল জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করেছে। জনগণ যদি জামায়াতে ইসলামীর হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, তবে জনগণ একটি ইসলামিক কল্যাণ রাষ্ট্রে সকল সামাজিক, মৌলিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অধিকার ভোগ করবে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে এ দেশের অমুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর বিভিন্ন দল ও মতের লোক বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন চালিয়েছে। তখন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এর প্রমাণ ডুমুরিয়াবাসীর কাছে রয়েছে।
২০০১ সালে এমপি নির্বাচিত হওয়ার স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, হিন্দু-মুসলিম জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছিলেন। আপনাদের দেওয়া সেই আমানত আমি যথাসাধ্য রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। ডুমুরিয়া-ফুলতলা অঞ্চলের স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদরাসা, মন্দির, শ্মশান ও রাস্তাঘাটসহ ৫০০ কোটি টাকার বেশি উন্নয়ন কাজ করেছি। সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমন করে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করেছিলাম। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আবারও এই জনপদ সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এখানকার রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তেমন উন্নয়ন হয়নি।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিল ডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা এই অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। অতীতে আমার সময়ে খাল খনন ও নদী ড্রেজিং করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আমি প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে বিল ডাকাতিয়ার পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে আপনারা যদি আমাকে আবার এ অঞ্চলের সেবা করার সুযোগ দেন, তাহলে বিল ডাকাতিয়ার স্থায়ী পানি নিষ্কাশনসহ এই অবহেলিত জনপদের বাকি উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ।
এসএস/আরএন