সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, বিগত ১৭ বছরের অপকর্ম, দুর্নীতি, দুঃশাসন, গণহত্যা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিচার শুরু হয়েছে। যারা গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন, তাদের পালিয়ে না গিয়ে দেশে থেকেই আইনের মুখোমুখি হওয়া উচিত ছিল।
রোববার বিকেলে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান ও টংগিবাড়ী উপজেলা প্রান্তে কুন্ডেরবাজার সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং দেশব্যাপী পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আয়োজিত সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “বিগত ১৭ বছরের বিভিন্ন অপরাধ ও অপকর্মের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এখন বিচারের সম্মুখীন। ইতিমধ্যে অনেক মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে এবং কিছু অভিযোগের বিচার কার্যক্রম আদালতে চলমান রয়েছে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। যারা আন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন এবং বর্তমানে পলাতক বা ‘ওয়ান্টেড’ আসামি হিসেবে চিহ্নিত, আইন চায় তারা দেশে ফিরে আসুন।”
তিনি আরও বলেন, “দেশে ফিরতে তাদের কেউ নিষেধ করেনি। তাদের উচিত ছিল দেশে থেকেই এই বিচার মোকাবিলা করা। তারা দেশে ফিরলে আদালতের রায় অনুযায়ী সরকার ও বিচার বিভাগ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে—এটাই স্বাভাবিক নিয়ম।”
টংগিবাড়ী উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলী আসগর রিপন মল্লিক।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ আলো।
এদিকে, টংগিবাড়ী উপজেলার কুন্ডেরবাজার এলাকায় বহুল প্রতীক্ষিত ১৫১ মিটার দৈর্ঘ্যের কুন্ডেরবাজার সেতুর পাইলিং ও নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
স্থানীয়রা জানান, কুন্ডেরবাজার সেতুটি নির্মিত হলে সিরাজদিখান ও টংগিবাড়ী উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ লাঘব হবে। একই সঙ্গে দুই উপজেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।
১৫১ মিটার দৈর্ঘ্যের এ সেতুটি নির্মিত হলে টংগিবাড়ী, লৌহজং, শ্রীনগর ও সিরাজদিখান উপজেলাসহ আশপাশের এলাকার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। সেতুটি চালু হলে ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জ জেলা সদরের সঙ্গে এ অঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হবে।
পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ এবং শিক্ষা ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও স্থানীয় জনগণ বিশেষভাবে উপকৃত হবেন।
সেতুটি বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি আর্থসামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
এমএইচ/আরএন