প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জন্মদিন পালনের নামে বিএনপি বা দলের নেতাদের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ টাকা দাবি করলে তাদের নাম প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) নজরুল ইসলাম আজাদ। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মডেল গ্রুপের মাসুদুজ্জামান মাসদুর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, বিশেষ কোনো সেবা বা সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানানো কিংবা তাঁদের মাধ্যমে প্রস্তাব দেওয়া যেতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জন্মদিন উপলক্ষে টাকা চাওয়ার বিষয়ে বিএনপি সরকার বা দলের নেতাদের কোনো নির্দেশনা রয়েছে বলে তাঁর জানা নেই।
তিনি বলেন, “যদি এরকম কিছু হয়ে থাকে, তাহলে যারা আমাদের নাম মেনশন করে টাকা চাইতে যাচ্ছে, তাদের নাম পরিষ্কার করে বলুন। আমরা ব্যবস্থা নেব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা এ বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেব।”
সভায় শ্রমিকদের বেতন প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আজাদ। তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার সক্ষমতা নির্ভর করে তাদের ক্রয়াদেশ, বায়ার এবং উৎপাদনমূল্যের ওপর। ভালো বায়ার ও উচ্চমূল্যের ক্রয়াদেশ থাকলে তুলনামূলক বেশি বেতন দেওয়া সম্ভব। তবে দেশের অধিকাংশ গার্মেন্টস কারখানা যে ধরনের বায়ারের কাজ করে, সেখানে উৎপাদনমূল্য তুলনামূলক কম।
নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, “গার্মেন্টস ব্যবসায় ৩০ হাজার, ৪০ হাজার কিংবা ৬০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া কোনো ইস্যু নয়—যদি সেই অনুযায়ী বায়ার ও কাজ থাকে। আপনি যদি ভালো কোনো বায়ারের কাজ করেন এবং আপনার সিএম ও এফওবি অনেক বেশি হয়, তাহলে এক লাখ টাকা বেতন দিতেও সমস্যা হবে না। কিন্তু বাংলাদেশের গার্মেন্টস মালিকরা যে ধরনের বায়ারের কাজ করেন, সেখানে দাম ও লাভের পরিমাণ সীমিত।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে শীর্ষ পর্যায়ের বায়ারের ক্রয়াদেশ তুলনামূলক কম আসে। অনেক প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট, লিডল, এমএনএইচসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বায়ারের জন্য কাজ করলেও সব ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মূল্যের ক্রয়াদেশ পাওয়া যায় না। তাই বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করে শ্রমিকদের বেতন নিয়ে মন্তব্য করলে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে।
শ্রমিকদের উদ্দেশে বক্তব্য বা দাবি উত্থাপনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনি যে বাক্যটি বলেছেন, সেটি যদি প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে আপনাকে দিয়ে শুরু করেন। এরপর অন্যান্য মালিকপক্ষসহ আমি সবাইকে নিয়ে শুরু করার চেষ্টা করব। আপনি একটু এক্সাম্পল হন, আপনি শুরু করে দেন; আমরা আপনাদের পিছনে পিছনে হাঁটব, ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও বলেন, কাউকে হেনস্তা করা কিংবা আবেগকে কাজে লাগিয়ে উসকানি দেওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়। দেশের স্বার্থ, নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন এবং মালিক-শ্রমিক উভয় পক্ষের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, কোনো বক্তব্য দেওয়ার আগে পরিস্থিতি ও পরিবেশ বিবেচনা করা জরুরি। আবেগপ্রবণ বা উসকানিমূলক বক্তব্যের পরিবর্তে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল আমিন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজিব এবং জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানসহ অন্যরা।
এসএস/এসএস