ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
বেগুন ৩ টাকা, লাউ ৩-৫ টাকা; দরপতনে লোকসান কৃষকের
✎ অবজারভার প্রতিনিধি
⏲ প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৫ পিএম
X

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে শীতকালীন সবজির ব্যাপক সরবরাহের কারণে পাইকারি বাজারে দরপতন দেখা দিয়েছে। কোথাও প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩ টাকায়। 

এতে কম দামে সবজি কিনে স্বস্তিতে রয়েছেন ক্রেতারা। তবে উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেকেই আগাম বেগুন ও লাউয়ের ক্ষেত তুলে বিকল্প ফসল চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

রোববার (৮ নভেম্বর) উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন, লাউ, কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন সবজির দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। ফলে কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। অন্যদিকে কম দামে সবজি কিনতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করছেন সাধারণ ক্রেতারা।

উপজেলার কুরুষাফেরুষা এলাকার কৃষক সিদ্দিক খন্দকার পাঁচ বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছিলেন। জমি প্রস্তুত থেকে ফসল উৎপাদন পর্যন্ত প্রতি বিঘায় তাঁর খরচ হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। সে হিসাবে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। অথচ এ পর্যন্ত বেগুন বিক্রি করে পেয়েছেন দেড় লাখ টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি বেগুনের দাম নেমে এসেছে মাত্র ৩ টাকায়। লোকসান কমাতে এক সপ্তাহ আগে তিনি ক্ষেতের বেগুনগাছ তুলে ফেলেছেন।

সিদ্দিক খন্দকার বলেন, গত বছর একই সময়ে প্রতি মণ বেগুন ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি করে ভালো লাভ পেয়েছিলেন। সেই আশায় এবারও বেগুন চাষ করেন। কিন্তু এবার বাজারে দাম না থাকায় পরিচর্যার খরচও উঠছে না। তাই বেগুনের ক্ষেত তুলে সাড়ে তিন বিঘা জমিতে সরিষা এবং আধা বিঘা জমিতে শসা চাষ করেছেন।

বেগুনের পাশাপাশি লাউ চাষেও লোকসান গুনতে হয়েছে তাঁকে। এক বিঘা জমিতে লাউ উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। মৌসুমের শুরুতে প্রতিটি লাউ ১০ টাকায় বিক্রি করলেও পরে দাম কমে ৩ থেকে ৫ টাকায় নেমে আসে। এতে উৎপাদন খরচ তোলা সম্ভব হয়নি। এর সঙ্গে সারসংকট ও বাড়তি দামে সার কেনায় উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়েছে। তবে এক বিঘা জমিতে পটল চাষ করে কিছুটা লাভের মুখ দেখেছেন তিনি।

লোকসান পুষিয়ে নিতে নতুন করে সরিষা, শসা ও ফুলকপির আবাদ করছেন সিদ্দিক। ইতোমধ্যে ২৪ শতক জমিতে ফুলকপি লাগিয়েছেন। এ ছাড়া সাড়ে চার বিঘা জমির আমন ধান কাটার পর সেখানে ভুট্টা ও শসা চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

একই উপজেলার পূর্ব ফুলমতি এলাকার কৃষক মিজানুর রহমানও বেগুনের দরপতনে বিপাকে পড়েছেন। এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষে তাঁর খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। অথচ এখন পর্যন্ত বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র ৩০ হাজার টাকা।

মিজানুর রহমান জানান, গত তিন সপ্তাহ ধরে প্রতি মণ বেগুন বিক্রি করছেন মাত্র ১৫০ টাকায়। গত বছর একই সময়ে প্রতি মণ বেগুন বিক্রি করেছিলেন ৮০০ টাকায়। বর্তমান বাজারদরে উৎপাদন খরচও উঠছে না। ভালো দাম পেলে আরও যত্ন নিয়ে গাছের পরিচর্যা করতেন। কিন্তু লোকসানের আশঙ্কায় এখন ক্ষেত তুলে বিকল্প ফসল চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নাওডাঙ্গা এলাকার সন্তোষ চন্দ্র রায় এবং কুরুষাফেরুষা এলাকার মুকুল মিয়া ও পুলিন চন্দ্র রায়সহ একাধিক কৃষকও একই পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, একদিকে সার ও কৃষি উপকরণের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য মিলছে না। এতে কৃষিকাজ চালিয়ে যাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, বালারহাট বাজারের খুচরা সবজি ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান নতু ও রবিউল ইসলাম বাবু জানান, পাইকারি বাজারে সবজির দাম কমলেও পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হওয়ায় খুচরা বাজারে কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

তাঁদের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে প্রতি কেজি বেগুন ৩ থেকে ৪ টাকায় কিনে ৮ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি করছেন তাঁরা। প্রতিটি লাউ ৫ থেকে ৭ টাকায় কিনে বিক্রি করছেন ১০ থেকে ১২ টাকায়। এ ছাড়া প্রতি কেজি ফুলকপি ৩০ টাকায় কিনে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং বাঁধাকপি ও মুলা ১০ টাকায় কিনে ২০ টাকায় বিক্রি করছেন।

বাজারে প্রতি কেজি শিম ও করলা ৫০ টাকায় কিনে ৬০ টাকায়, আলু ১২ টাকায় কিনে ১৫ টাকায়, পেঁয়াজ ৩২ টাকায় কিনে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় এবং কাঁচা মরিচ ৩০ টাকায় কিনে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ধনেপাতা ৩০ টাকায় কিনে ৪০ টাকা, রসুন ৭০ টাকায় কিনে ৮০ টাকা, আদা ১২০ টাকায় কিনে ১৬০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৩০ টাকায় কিনে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

ফলে একই বাজারে তৈরি হয়েছে ভিন্ন চিত্র। কম দামে সবজি কিনে ক্রেতারা স্বস্তিতে থাকলেও উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে হতাশ কৃষকেরা। তাঁদের আশঙ্কা, এভাবে লোকসান চলতে থাকলে ভবিষ্যতে অনেক কৃষক সবজি চাষ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, খরিফ-১ মৌসুমে ৪০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৫ হেক্টর জমির ফসল কর্তন করা হয়েছে। অন্যদিকে, চলতি শীতকালীন মৌসুমে ৪০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে লাউ ৩৫ হেক্টর এবং কাঁচা মরিচ ১০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, চলতি বছর বৃষ্টিপাত কম হলেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বেগুন ও লাউয়ের উৎপাদন ভালো হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে এসব সবজি বিক্রি করে কৃষকেরা ভালো দাম পেয়েছেন। তবে বর্তমানে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বেগুন ও লাউয়ের দাম কমেছে।

এ অঞ্চল থেকে প্রতিদিন ট্রাকযোগে অন্তত ১৫ থেকে ২০ ট্রাক সবজি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয় বলে স্থানীয়ভাবে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকেরা যাতে তাঁদের উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য পান, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

এসএস  
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১
E-mail: [email protected], [email protected]. [email protected], [email protected], [email protected], ‍[email protected], Online-email: [email protected]

🔝