ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
ঘুষ ও চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য: সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অপচেষ্টা
✎ আহসান হাবিব বরুন
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:২২ পিএম
X

চব্বিশের রক্তাক্ত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কেবল একটি স্বৈরাচারী ও নিপীড়ক শাসনের পতন ঘটায়নি, বরং এটি বাংলাদেশের রাজনীতি, রাষ্ট্রচিন্তা এবং সমাজমানসে এক সুগভীর ও বিপ্লবী পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছিল। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের জঞ্জাল, প্রাতিষ্ঠানিক ধস এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করে একটি মানবিক, দুর্নীতিমুক্ত, গণতান্ত্রিক ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার নতুন শপথ নিয়েছিল পুরো জাতি।

রাজপথে অকাতরে প্রাণ উৎসর্গ করা হাজারো শহীদ এবং রক্তভেজা তরুণ প্রজন্মের মূল আকুলতা ছিল, এই স্বাধীন ভূখণ্ডে আর কখনো আইনের শাসন স্তব্ধ হবে না, আর কোনো নাগরিকের অধিকার খর্ব হবে না এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার দাপটে গণমানুষের জীবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে না।

দেশীয় এই সংকট কাটিয়ে দেশকে একটি দুর্নীতিমুক্ত, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও বিশ্বমঞ্চে স্বনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনরাত নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতি, ভেঙে পড়া প্রশাসনিক কাঠামো এবং অবক্ষয়গ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুদ্ধার করে জনগণের দোরগোড়ায় সুশাসন পৌঁছে দিতে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই।

তাঁর এই সততা, দূরদর্শিতা ও রাষ্ট্রসংস্কারের সৎ উদ্দেশ্যকে নস্যাৎ করতে চারপাশজুড়ে যেন এক অদৃশ্য ও বিপজ্জনক রাজনৈতিক-প্রশাসনিক যুদ্ধ শুরু হয়েছে। দেশকে একটি স্থিতিশীল ও সুখী-সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে তাঁর এই নিরলস লড়াইকে ব্যর্থ করতে চতুর্মুখী ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে মেতে উঠেছে একদল হিতাহিতজ্ঞানশূন্য ও স্বার্থপর গোষ্ঠী।

একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের অনিয়ন্ত্রিত ঊর্ধ্বগতি, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, বিমানবন্দরে নানারকম ভোগান্তি-হয়রানি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাংশের অরাজক আচরণ এবং রাজনৈতিক মহলে চরম হঠকারিতা—সব মিলিয়ে চারদিকে এক বিষাদময়, এলোমেলো ও অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টা চলছে।

এসব অপকর্ম ও অস্থিতিশীলতার চূড়ান্ত দায়ভার এসে পড়ছে সরকারের ঘাড়ে। এই বেপরোয়া চক্রান্তকারীরা অনুধাবন করতে পারছেন না যে, তাদের এই সাময়িক লোভ ও অপকর্মের সুযোগ নিয়ে আবারও পতিত ও পলাতক স্বৈরাচারী শক্তির পুনরুত্থান ঘটতে পারে। সেই অভিশপ্ত দিনগুলো ফিরে এলে এই রাজনৈতিক সুবিধাপ্রাপ্ত অপরাধীদের আবারও লোকচক্ষুর আড়ালে বনে-জঙ্গলে বা কারাগারে পলায়নপর জীবন কাটাতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে এই ন্যূনতম ঐতিহাসিক সত্য অনুধাবনেও তারা আজ পুরোপুরি ব্যর্থ ও অন্ধ হয়ে পড়েছে।

আরো উদ্বেগজনক হচ্ছে, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা বিধান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায়ের প্রতিরোধে পুলিশ বাহিনীই হলো রাষ্ট্রের প্রথম ও প্রধান নির্বাহী হাত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা মৌলিক ও অপরিসীম হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরে এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকাণ্ডে যে ধরনের অস্থিরতা, বিভ্রান্তিকর আচরণ ও অপপ্রয়াসের চিত্র ফুটে উঠছে, তা রাষ্ট্রের ভিত্তিকে নাড়িয়ে দেওয়ার মতো চরম দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করলে প্রতিটি সচেতন নাগরিকের মনে এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে, এসব কি শুধুই ব্যক্তিকেন্দ্রিক পেশাগত অবহেলা বা নৈতিক স্খলন, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে বর্তমান সরকারকে অস্থিতিশীল ও জনবিচ্ছিন্ন করার এক গভীর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চক্রান্ত।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন থানা ও মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্য, ভিডিও এবং রহস্যজনক নীরবতা পর্যবেক্ষণ করলে এই ষড়যন্ত্রের ভয়াবহ নকশা স্পষ্ট ফুটে ওঠে। ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসির বহুল আলোচিত অডিও ফাঁসের ঘটনায় তাকে অত্যন্ত দায়িত্বহীনভাবে বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনকালকে বর্তমান সরকারের সময়ের চেয়ে পুলিশ বাহিনীর জন্য নিরাপদ এবং ঘুষমুক্ত হিসেবে দাবি করতে শোনা যায়।

এটি কেবল অনভিপ্রেত বা হাস্যকরই নয়, বরং বাংলাদেশের ৫৬ বছরের ইতিহাসের অন্যতম বড় ঐতিহাসিক সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার এক হীন অপচেষ্টা। আওয়ামী লীগের টানা দেড় দশকের শাসনামলে পুলিশে নিয়োগ, পদায়ন এবং বদলি নিয়ে যে ধরনের নজিরবিহীন আর্থিক লেনদেন, বাণিজ্য ও দলীয়করণ সংগঠিত হয়েছে, তা এ দেশের ইতিহাসে কখনো দেখা যায়নি। টাকার বিনিময়ে দলীয় কর্মীদের পুলিশে চাকরি দেওয়া, নির্দিষ্ট ক্যাডার কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করতে বিরোধী মতকে দমন করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের যে চরম সংস্কৃতি তারা তৈরি করেছিল, তা পুরো বাহিনীকে একটি রাজনৈতিক পেটোয়া বাহিনীতে পরিণত করেছিল।

এই একই অডিওতে বিতর্কিত, গুম-খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত এবং বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক সাবেক আইজিপি বেনজীরের প্রশংসাও শুনতে পাওয়া যায়। একজন পেশাদার কর্মকর্তা কখনোই এ ধরনের বিতর্কিত মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তির প্রশংসা করতে পারেন না, যদি না তার মধ্যে গভীর আদর্শিক আনুগত্য বা সুনির্দিষ্ট চক্রান্তমূলক রাজনৈতিক এজেন্ডা থাকে।

একই ধারাবাহিকতায় ঢাকার গুলশানে একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠনের প্রকাশ্য মিছিলের ঘটনা সবাইকে স্তম্ভিত করে। রাজধানীর মতো স্পর্শকাতর ও কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় গুলশান থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের নিবিড় যোগসাজশ বা পরোক্ষ সমর্থন ছাড়া এ ধরনের ঝটিকা মিছিল ও রাজনৈতিক তৎপরতা চালানো একেবারেই অসম্ভব। অন্যদিকে নোয়াখালীর সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যখন জনসম্মুখে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতার বাড়িতে গিয়ে ভুরিভোজে অংশ নেন এবং তাঁর ছবি প্রকাশ পায়, তখন বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, প্রশাসনের ভেতরে এখনো পতিত স্বৈরাচারের প্রেতাত্মারা সক্রিয় রয়েছে।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার দুই এএসআই ইলিয়াস হোসাইন ও অতনু বণিকের ঘুষ-সংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো দেশজুড়ে চরম সমালোচনা শুরু হয়েছে। একজন সহকারী উপপরিদর্শক যখন প্রকাশ্যে বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের সামনে ঘোষণা দেন যে, তিনি ঘুষের টাকায় পোশাক কিনেছেন এবং ঘুষ খাওয়ার জন্যই চাকরি করেন কিংবা অন্য কর্মকর্তা যখন টাকার বিনিময়ে আইনি ধারার ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন, তখন সাধারণ মানুষের কাছে রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। তবে কেবল মাঠপর্যায়ের এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ধরে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলে সমস্যার মূল শিকড়ে পৌঁছানো যাবে না। প্রশ্ন তোলা দরকার, পুলিশের এই অরাজকতার পেছনে মূল চালিকাশক্তি কারা এবং উচ্চপর্যায়ের তদারকিতে কোথায় ভুল হচ্ছে।

যেসব কর্মকর্তা বিপুল পরিমাণ টাকা ঘুষ দিয়ে পোস্টিং পান, তাঁদের মূল লক্ষ্য কখনো জনসেবা বা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হতে পারে না; তাঁদের একমাত্র হিসাব থাকে, কীভাবে সুদে-আসলে সেই বিনিয়োগের টাকা তুলে নেওয়া যায়। এই লোভী কর্মকর্তারা অপরাধ নিয়ন্ত্রণ বা সামাজিক নিরাপত্তা বিধানের বদলে অপরাধীদের সঙ্গে এক ধরনের গোপন অংশীদারত্ব তৈরি করেন, যেখান থেকে তাঁরা মাসোহারা আদায় করেন। যার ফলশ্রুতিতে এলাকাভিত্তিক চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা যায় না এবং এর চূড়ান্ত দায়ভার এসে পড়ে সরকারের ঘাড়ে।

পতিত স্বৈরাচারের দোসর বা দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা বাধ্যতামূলক অবসর পাওয়ার পরও টাকার বিনিময়ে সুবিধাভোগ করছেন। অর্থাৎ সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর উদ্দেশ্যে যেসব চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ ও রাজনৈতিক তকমাধারী পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে, তাঁদের অনেকেই বিপুল অর্থের বিনিময়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁদের বকেয়া, অবসরকালীন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা তুলে নিয়ে গেছেন। মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটকে ঘুষের মাধ্যমে সন্তুষ্ট করে এই চিহ্নিত দোসর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা টাকা তুলে সটকে পড়তে পারছেন।

অথচ এর ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে সেইসব পেশাদার ও সৎ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে, যারা অতীত আমলেও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন কিংবা রাজনৈতিক বলয়ের শিকার হয়ে প্রাপ্য পদোন্নতি পাননি। মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট কিছু অসাধু মহল বা সুবিধাবাদী চক্রকে অর্থ প্রদান করতে না পেরে তাঁরা মাসের পর মাস ঘুরেও তাঁদের বৈধ অবসরকালীন পাওনা ও সুবিধা পাচ্ছেন না।

সরকারকে বিতর্কিত করার এই প্রশাসনিক ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে রাজপথে তৃণমূলের এক শ্রেণির সুবিধাবাদী ও বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের বেপরোয়া দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজি। সরকারপ্রধান তারেক রহমান যেখানে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছেন, সেখানে এক শ্রেণির লোভী ব্যক্তি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করছে।

মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জিরো টলারেন্স নীতি প্রদর্শন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি নিজ দলের সংরক্ষিত আসনের এমপিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেন।

এই পরিস্থিতিতে যখন জাতীয় ঐক্য, দায়িত্বশীলতা এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখন জামায়াত এবং এনসিপির মতো রাজনৈতিক দলগুলো বেছে নিয়েছে হঠকারিতার রাস্তা।

দেশের সার্বিক অস্থিতিশীলতা নিরসনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার বদলে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মসূচি পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও এলোমেলো করে তুলছে। রাজনৈতিক মাঠের এই দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রতিযোগিতা ও হঠকারী সিদ্ধান্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে, যা মূলত সরকারকে ব্যর্থ করার চক্রান্তকারীদের হাতকেই শক্তিশালী করছে।

তারেক রহমান যখন দেশকে দুর্নীতিমুক্ত ও জঞ্জালমুক্ত করে একটি আধুনিক, কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে রূপান্তরের জন্য দিনরাত লড়াই করছেন, তখন চারপাশের এই এলোমেলো ও বিশৃঙ্খল চিত্র তাঁর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করছে। চক্রান্তকারীরা মনে করছে যে, তারা সরকারকে বেকায়দায় ফেলে নিজেদের পকেট ভারী করবে কিংবা রাজনৈতিক ফায়দা লুটবে।

কিন্তু এই মূর্খরা অনুধাবন করতে পারছেন না যে, রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং সামাজিক কাঠামো যদি এভাবে ধসে পড়ে, তবে সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর পতিত স্বৈরাচারের পুনরুত্থান ঘটবে। আর যদি সেই ফ্যাসিবাদী রাজত্ব পুনরায় ফিরে আসে, তবে আজ যারা চক্রান্ত করছে কিংবা বেপরোয়া চাঁদাবাজি করছে, তাদের কাউকেই ক্ষমা করা হবে না এবং তাদের আবারও দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে বনে-জঙ্গলে পালিয়ে বেড়াতে হবে।

এই সংকটময় ও বিষাক্ত পরিস্থিতি থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে সরকারকে অতি দ্রুত এবং অত্যন্ত কঠোর ও নির্মম প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কালক্ষেপণ করার কোনো সুযোগ নেই। অবিলম্বে পুলিশ বাহিনী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেতরে গড়ে ওঠা দুর্নীতির সর্বগ্রাসী সিন্ডিকেটকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে হবে। ঘুষের বিনিময়ে পদায়ন ও সুবিধাবাদী আমলাদের অপতৎপরতা বন্ধ করতে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ অডিট ও বিশেষ গোয়েন্দা তদন্ত চালাতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক আমলাদের বিতর্কিত অডিও-ভিডিও, টাকার বিনিময়ে আসামি ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ এবং অসাধু কর্মকাণ্ডের তদন্তে অবিলম্বে একটি ক্ষমতাধর ও নিরপেক্ষ স্বাধীন কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, দলীয় বহিষ্কারের পাশাপাশি রাজপথের চাঁদাবাজ, দখলদার এবং সন্ত্রাসী ক্যাডারদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে প্রচলিত ফৌজদারি আইনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

পুলিশসহ প্রশাসনিক সব ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের টাকার খেলা বন্ধ করে স্বচ্ছ মেধা ও পেশাদারিত্বভিত্তিক নীতি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং সৎ ও পেশাদার কর্মকর্তাদের উপযুক্ত মূল্যায়ন প্রদান করতে হবে। শিক্ষাঙ্গনে রামদা ও ক্যাডার সংস্কৃতির চর্চা চিরতরে বন্ধ করে নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং স্বাধীন গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের ক্ষেত্রে শূন্য-সহনশীলতা নীতি প্রয়োগ করা জরুরি।

পরিশেষে বলতে চাই, পুলিশ কিংবা প্রশাসন কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দলের লাঠিয়াল বাহিনী নয়, তারা রাষ্ট্রের আইন ও সংবিধানের অনুগত কর্মচারী। যখন বাহিনীর ভেতরে রাজনীতি, ঘুষ ও চক্রান্ত স্থান পায়, তখন পুরো রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙে পড়ে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সংস্কার ও সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রাকে নস্যাৎ করতে যে অদৃশ্য যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তাকে কঠোর হাতে দমন করতেই হবে। কালক্ষেপণ না করে সরকারের শীর্ষ মহলকে এই অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক শক্তি প্রয়োগ করতে হবে, নতুবা এই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার আগুন দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতা ও গণ-অভ্যুত্থানের অর্জনকে ছারখার করে দেবে। পুনরুত্থান ঘটবে ফ্যাসিবাদের। তখন আর কেউ রেহাই পাবে না। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের প্রিয় জন্মভূমিকে সব ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদের সঠিক হেদায়েত ও সহিহ বুঝ নসিব করুন।

এসএস

Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১
E-mail: [email protected], [email protected]. [email protected], [email protected], [email protected], ‍[email protected], Online-email: [email protected]

🔝