ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
লক্ষ্মীপুরে অপচিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ
✎ অবজারভার প্রতিনিধি
⏲ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০১ পিএম
X
Advertisement

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে অপচিকিৎসায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে লাইফ লাইন (প্রা.) হাসপাতালের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রসূতি শাহনাজ বেগমের (২০) অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রসূতিকে আটকে রেখে অননুমোদিত চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিচার চেয়ে জেলা সিভিল সার্জনসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে পরিবারটি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জেলা সিভিল সার্জন ডা. বাহারুল আলমের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন নবজাতকের বাবা মো. আরিফ হোসেন। অভিযোগের অনুলিপি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসকের কাছেও পাঠানো হয়েছে। আরিফ উপজেলার চর লরেন্স ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আজাদের ছেলে।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১৩ অক্টোবর রাতে প্রসববেদনা উঠলে আরিফ তাঁর স্ত্রী শাহনাজ বেগমকে করইতলা বাজার এলাকার লাইফ লাইন হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক সহকারী সুমাইয়া ইসলাম সুমনা প্রসূতির আলট্রাসনোগ্রাফি করেন এবং স্বাভাবিক প্রসবের আশ্বাস দিয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ভর্তির ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও প্রসবের অগ্রগতি না হওয়ায় স্বজনরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সুমাইয়া ইসলাম তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রসব না হওয়ায় স্বজনরা প্রসূতিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুরোধ জানান। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র না দিয়ে রোগীকে আটকে রেখে একের পর এক ইনজেকশন দিতে থাকে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে গর্ভেই নবজাতকের মৃত্যু হলে অবশ না করেই তড়িঘড়ি করে অস্ত্রোপচার করা হয় বলে অভিযোগ করেছে পরিবারটি।

পরিবারের দাবি, সুমাইয়া ইসলাম সুমনা এমবিবিএস চিকিৎসক নন; তিনি ডিএমএফ (মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট) সনদধারী। এমবিবিএস চিকিৎসক ছাড়াই হাসপাতালটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং বৈধ অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে দিয়ে প্রসূতির চিকিৎসা ও আলট্রাসনোগ্রাফি করানো হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। ওই হাসপাতালে এর আগেও একাধিক নবজাতকের মৃত্যু এবং প্রসূতিদের শারীরিক জটিলতা তৈরির অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি পরিবারের।

নবজাতকের বাবা আরিফ হোসেন বলেন, “আমরা বারবার অনুরোধ করেও রোগীকে জেলা শহর বা ঢাকায় নিতে পারিনি। উল্টো আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং রোগীকে একের পর এক ইনজেকশন দেওয়া হয়।”

তিনি আরও বলেন, “অবশ না করেই তড়িঘড়ি করে অস্ত্রোপচার ও সেলাই করায় এখন আমার স্ত্রীর অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তিনি বর্তমানে লক্ষ্মীপুরের একটি হাসপাতালে গাইনি বিশেষজ্ঞের অধীনে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাঁকে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হয়নি এবং সেলাইও ঠিকমতো করা হয়নি।”

এ ঘটনায় লাইফ লাইন হাসপাতাল ও সুমাইয়া ইসলামের বিরুদ্ধে অবিলম্বে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান আরিফ।

অভিযোগের বিষয়ে লাইফ লাইন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, “ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের বিষয়টি শুনেছি। তবে কিছু লোক আমাকে সাময়িকভাবে হয়রানি করার মিশন নিয়ে এসব করছে।”

লক্ষ্মীপুরের জেলা সিভিল সার্জন ডা. বাহারুল আলম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, সিভিল সার্জনের নির্দেশনা অনুযায়ী পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কনসালটেন্ট ডা. মনোয়ার হোসেনকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিটিকে।

এসএস
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement