ইউরোপের ন্যাটোভুক্ত দেশ বুলগেরিয়ার কৃষ্ণসাগর উপকূলে ড্রোন হামলায় একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে গেছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এ ঘটনায় ১১ নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনার পর রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে বুলগেরিয়া।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাতভর দুটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে একটি জাহাজ ডুবে যায়। হামলার জন্য সরাসরি রাশিয়াকে দায়ী না করলেও বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ বলেছেন, ‘এসব ঘটনার ফলাফল রুশ ফেডারেশনের জন্য লাভজনক।’
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, এ হামলা বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি মস্কোর অবজ্ঞার প্রতিফলন। তাঁর অভিযোগ, কৃষ্ণসাগরে হামলার মাধ্যমে রাশিয়া বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে এবং ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
মঙ্গলবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন ও ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন রাদেভ। এ সময় বুলগেরিয়ার সমুদ্রসীমা ও আকাশসীমায় নজরদারি জোরদারে তাঁদের সহায়তা চান তিনি। বুলগেরীয় সরকারের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বুলগেরীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্রাপেতস গ্রামের উপকূলে ডুবে যাওয়া জাহাজটির পাঁচজন নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ১১ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইয়োতোভা জানিয়েছেন, জাহাজটির নাম এইচএস ডিগনিটি। এটি গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ। নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে।
এদিকে, মাল্টার পতাকাবাহী আরেকটি জাহাজ চেলসি থ্রিতেও তিনটি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছেন বুলগেরীয় কর্মকর্তারা। জাহাজটিতে থাকা সাত ইউক্রেনীয় ও আট আজারবাইজানি নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের কেউ গুরুতর আহত হননি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এর এক সপ্তাহ আগে বুলগেরিয়ার কৃষ্ণসাগরের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে ড্রোন হামলায় আরেকটি জাহাজ ডুবে যায়। ওই ঘটনায় নয়জন সিরীয় ও একজন মিশরীয় নাবিক নিখোঁজ হন। একই রাতে আরেকটি জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছিল, তবে সেটির নাবিকদের উদ্ধার করা হয়।
সোফিয়ায় রাদেভের সঙ্গে বৈঠকের পর রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত এলিওনোরা মিত্রোফানোভা বলেন, কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার বিষয়ে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে তৃতীয় কোনো পক্ষ উসকানি দেওয়ার উদ্দেশ্যে এসব হামলা চালিয়ে থাকতে পারে এ সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করেননি বলে বুলগেরীয় সরকারের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে কৃষ্ণসাগরের নৌপথ ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয়ই বিশ্বের প্রধান শস্য রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটিকে দানিউব নদীর বন্দর এবং ন্যাটো সদস্য বুলগেরিয়া ও রোমানিয়ার উপকূলসংলগ্ন নৌপথের ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনও কৃষ্ণসাগরের বিভিন্ন অংশ এবং আজভ সাগরের দন নদীর মোহনা এলাকায় রাশিয়ার শস্য রপ্তানিতে ব্যবহৃত জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। ফলে কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক নৌপরিবহন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এসএস