বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও মার্কিন ডলারের দাম কমায় মঙ্গলবার বেড়েছে স্বর্ণের দাম। তবে চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে এমন প্রত্যাশা তুলনামূলক কম থাকায় বিনিয়োগকারীরা মূল্যস্ফীতি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্যের দিকে নজর রাখছেন।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১৮৬ দশমিক ৯১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার দর ০.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২১১ দশমিক ৩০ ডলারে পৌঁছেছে।
স্যাক্সো ব্যাংকের পণ্যবাজার কৌশল বিভাগের প্রধান ওলে হ্যানসেন বলেন, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশিত হবে। বুধবার প্রকাশিত হওয়ার কথা সেপ্টেম্বরের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) এবং বৃহস্পতিবার উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) ও খুচরা বিক্রির তথ্য।
হ্যানসেনের মতে, এসব তথ্য ও নীতিনির্ধারকদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে স্বল্পমেয়াদে সরকারি বন্ডের মুনাফার হার, ডলারের মূল্য এবং মূল্যবান ধাতুর বাজারের গতিপথ নির্ধারিত হতে পারে। তাঁর ভাষ্য, স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
এদিকে, মঙ্গলবার জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো সাপ্তাহিক দরপতনের দিকে এগোচ্ছে তেলের বাজার। একই সময়ে ১৮ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কিছুটা নেমেছে মার্কিন ডলারের দর। যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের মুনাফার হারও কমে ২ অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বন্ডের মুনাফার হার কমলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগব্যয় কমে যায়, যা মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারে স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হওয়ায় মার্কিন মুদ্রার দর কমলেও সাধারণত স্বর্ণের দাম বাড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল রিজার্ভকে তুলনামূলক দ্রুত আরও কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ক্লিভল্যান্ড ফেডের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যামাক। তাঁর মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন পদক্ষেপ প্রয়োজন।
বাজারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মাসে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ১৭ শতাংশ। তবে ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৮৭ শতাংশ ধরে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জের (সিএমই) ফেডওয়াচ টুলের তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।
ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভোর মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনার প্রবণতা, সরকারি ঋণ বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ এবং ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়গুলো স্বর্ণের বাজারকে সহায়তা দিতে পারে। তাঁর ধারণা, বছরের শেষ দিকে এবং ২০২৭ সালেও স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল হয়ে আবার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরতে পারে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। মঙ্গলবার স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স রুপার দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে ৬০ দশমিক ৪৪৮১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ০.৯ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭০১ দশমিক ১০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৪৯ দশমিক ৫২ ডলারে পৌঁছেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স।
এসএস