যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত জ্বালানি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এ পরিস্থিতিতে মস্কোর ওপর চাপ বাড়াতে রাশিয়ার সামরিক শিল্প খাতকে লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
সোমবার (১২ অক্টোবর) জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের অন্তত ছয়টি জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে গ্যাস উৎপাদনকেন্দ্র ও একটি পেট্রল স্টেশনে ড্রোন হামলার কথা উল্লেখ করেন তিনি। খারকিভ শহরের একটি তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া যদি জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ না করে, তাহলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা কঠিন হবে। যুক্তরাষ্ট্রকে এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ওয়াশিংটনকে নিশ্চিত করতে হবে, মস্কো যেন চুক্তির শর্ত মেনে চলে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও জানান, ওই রাতে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে কোনো হামলা চালায়নি ইউক্রেন। তবে রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করলেই কেবল এ ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ রাখার উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা
সপ্তাহান্তে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইউক্রেন ও রাশিয়া পরস্পরের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে এ ঘোষণা ইউক্রেন ও ইউরোপের মিত্রদের বিস্মিত করেছে। জেলেনস্কি জানান, চুক্তির বিস্তারিত শর্ত সম্পর্কে তিনি এখনো পরিষ্কার ধারণা পাননি।
এর কয়েক দিন আগে রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার একটি চুক্তির কথাও জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। ইউক্রেনের আশঙ্কা, এ ধরনের উদ্যোগের ফলে রাশিয়ার অর্থনীতি ও যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হতে পারে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার কথা জানানো হলেও ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, মস্কো সাময়িক যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। জেলেনস্কির ৬০ দিনের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া।
রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা
ইউক্রেনে রুশ হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় দেশগুলো। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেছেন, রাশিয়া কেবল চাপের মুখেই গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসবে। তাই মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস জানান, রাশিয়ার সামরিক শিল্প ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় প্রায় ১ হাজার ৬০০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান যুক্ত করা হয়েছে, যা ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর ইইউর অন্যতম বৃহৎ নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ।
হামলায় হতাহত
যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রুশ হামলায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিয়েভে একটি বহুতল আবাসিক ভবনে হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং নয়জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। খারকিভসহ অন্যান্য এলাকায়ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। রাজধানী কিয়েভে কয়েক ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার পাশাপাশি পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাতেও প্রভাব পড়েছে।
এদিকে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের পাল্টা হামলার কারণে জ্বালানির দাম বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন ট্রাম্প। তবে জেলেনস্কি এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলা এবং যুদ্ধবিরতি নিয়ে মতবিরোধের কারণে সংঘাত প্রশমনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এফএস