ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামাসের দেওয়া এমন একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, যাতে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরাইল থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া সব বেসামরিক জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এমন দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে নতুন করে একাধিক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হচ্ছে, হামাসের প্রস্তাবটি ছিল সব বেসামরিক জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে। তবে ওই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। এ নিয়ে নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্ত ও জিম্মি সংকট মোকাবিলায় তার ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সময় দক্ষিণ ইসরাইল থেকে বেশ কয়েকজন বেসামরিক মানুষকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাদের মুক্তি ইসরাইলি রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়। জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা এবং চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হলেও সব জিম্মির মুক্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে এর আগেও জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জিম্মিদের পরিবার ও তাদের সমর্থকেরা বিভিন্ন সময়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহু ও তার সরকার দাবি করে আসছে, হামাসের ওপর সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখাই জিম্মিদের মুক্তির পথ তৈরি করতে পারে।
নতুন এসব প্রতিবেদন এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইসরাইলে জাতীয় নির্বাচনের এক মাসেরও কম সময় বাকি। ফলে জিম্মি সংকট এবং নেতানিয়াহুর নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো নির্বাচনি রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
তবে হামাসের কথিত প্রস্তাবের সুনির্দিষ্ট সময়, শর্ত এবং নেতানিয়াহু ঠিক কী কারণে তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন—এসব বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য না থাকায় দাবিটির পুরো প্রেক্ষাপট নিয়ে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
একইসঙ্গে, কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি এ সপ্তাহে বলেছেন, হামাস সীমিত সময়ের যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে সব জিম্মিকে মুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল এবং ইসরাইলি কর্মকর্তারা সেটি গ্রহণের ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
এসএ