সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) তিন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধার ও তাঁদের সাময়িক বহিষ্কারের বিষয়ে একটি পোস্ট শেয়ার করাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বহিরাগত এক যুবককে আটকে রাখেন শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার রাত ৯টা থেকে পৌনে ১০টা পর্যন্ত এ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার সময় ওই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
খুবির একটি সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধার এবং তাঁদের বহিষ্কারের বিষয়ে একটি পোস্ট শেয়ার করেন খাজা হল-সংলগ্ন এলাকার সজল নামের এক যুবক।
ওই পোস্টে লেখা ছিল, ‘তোদের যা বলতে মন চায়, তা বলতে পারি না’ এবং ‘তোদের যারা শিক্ষিত করছে, তারা বড় গণ্ডমূর্খ’।
এ ধরনের পোস্ট দেখে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হন। রাতে খাজা হল-সংলগ্ন এলাকায় ওই যুবককে দেখতে পেয়ে তাঁকে ধরে ভেতরে নিয়ে যান তাঁরা। সেখানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।
এ খবর পেয়ে ওই যুবকের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। পরে ওই যুবককে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
রাত ১১টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের আলোচনা চলছিল।
জানতে চাইলে হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ আছে। দুজনকে আটক করা হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানাব।’
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করছি।’