কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে রাসেল হোসেন (৩৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রাসেল হোসেন তাজপুর গ্রামের আহাদ আলীর ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, তার ছোট ভাই ইমরান হোসেন রাজু (২৮) ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়েছেন। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাসেল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদক সেবনের জন্য টাকা চাওয়া নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার প্রায়ই কথা-কাটাকাটি ও বিরোধ হতো। ঘটনার দিন বিকেলেও এ বিষয় নিয়ে রাসেলের সঙ্গে তার ছোট ভাই ইমরানের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনার মধ্যে ইমরান দা দিয়ে রাসেলকে কোপ দেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। এতে তার পা ও পেটে গুরুতর জখম হয়।
পরে পরিবারের সদস্যরা রাসেলকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
তবে রাসেলের মা রাশেদা খাতুন বলেন, বাঁশ কাটার সময় হাত থেকে হাসুয়া ছুটে গিয়ে তার বড় ছেলে রাসেলের পায়ে গুরুতর জখম হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, রাসেল নেশাগ্রস্ত ছিলেন এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। ছোট ছেলে ইমরানের আঘাতে রাসেল আহত হওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ শুক্রবার রাতে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে।
এদিকে, মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে দৌলতপুরে তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করে পুলিশের নজরদারি ও কার্যক্রম আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
এসআই/আরএন