রফতানিমুখী পোশাক প্রস্তুতকারকদের জন্য সুতা ও কাপড় আমদানিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আগাম অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে নিয়েছে সরকার। আমদানি নীতি আদেশ (আইপিও) সংশোধনের মাধ্যমে এ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গতকাল এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘আমদানি নীতি আদেশ, ২০২৬-২০২৯’-এর বেশ কয়েকটি বিধান সংশোধন করেছে। সংশোধিত বিধানগুলো অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
সংশোধিত নীতি অনুযায়ী, তৈরি পোশাকশিল্পের নির্দিষ্ট কিছু পণ্য উৎপাদনের জন্য বিশেষায়িত ফেব্রিক আমদানি করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে সিমলেস স্পোর্টসওয়্যার, উচ্চমূল্যের ফ্যাশন পণ্য এবং কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি ফাংশনাল অ্যাপারেল।
তবে এসব ফেব্রিক আমদানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিল্প সমিতির সুপারিশ নিতে হবে।
এ ছাড়া নির্ধারিত টেক্সটাইল ও হোসিয়ারি পণ্য নিশ্চিত ও ফেরত-অযোগ্য রফতানি আদেশ বা চুক্তির ভিত্তিতে আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি অথবা চুক্তির মাধ্যমেও এসব পণ্য আমদানি করা যাবে।
শিল্পপ্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি ও স্পেয়ার পার্টস আমদানির বিধানও সহজ করেছে সরকার।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অনুমোদিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো নতুন শিল্প ইউনিট স্থাপনের জন্য ইমপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (আইআরসি) ছাড়াই মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করতে পারবে।
একই সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কার্যক্রম ও উৎপাদনক্ষমতা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত বা খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানির সুযোগও রাখা হয়েছে।
সরকারের সংশোধিত বিধানের মূল লক্ষ্য হলো আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করা এবং রফতানিমুখী শিল্প ও অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখা।
আমদানি ও রফতানি (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৫০ এবং ‘আমদানি নীতি আদেশ, ২০২৬-২০২৯’-এর সংশ্লিষ্ট বিধানের আওতায় জারি করা প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
-টিএস