গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে টিউবওয়েলের পানি পান করার পর পরিবারের চার সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় রাতে বাড়ি থেকে নগদ ৪ লাখ টাকা ও প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী হরেন্দ্র নাথ চন্দ্র বর্মন (৫৫)।
ঘটনাটি উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনিরাম কাজী গ্রামে। হরেন্দ্র নাথ চন্দ্র বর্মন ওই গ্রামের মৃত হলধর চন্দ্র বর্মনের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৯ সেপ্টেম্বর বাড়িতে কাজ করার সময় হরেন্দ্র নাথ চন্দ্র বর্মন, তাঁর স্ত্রী সরদিন রানী, মেয়ে উজ্জলী রানী ও বউদি জবা রানী বাড়ির ভেতরের টিউবওয়েলের পানি পান করেন। এরপর তাঁরা ঘুমঘুম ভাব অনুভব করেন। পরে স্থানীয় ফলগাছা বাজারের এক চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সরদিন রানী ও জবা রানীকে স্যালাইন দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, চিকিৎসা শেষে ২০ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির দরজা বন্ধ করে নিজ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তাঁদের অসুস্থতার খবর পেয়ে ঢাকা থেকে স্বজন সজীব চন্দ্র, গোলাপী রানী ও শেফালী রানী বাড়িতে আসেন। তাঁরা বাড়ির দরজা খোলা এবং ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। পরে পরিবারের সদস্যরাও ঘরের পরিস্থিতি দেখতে পান।
অভিযোগ অনুযায়ী, হরেন্দ্র নাথের শয়নকক্ষের স্টিলের বাক্সে রাখা নগদ ৪ লাখ টাকা ও প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়নি। চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে ৪ আনা ওজনের এক জোড়া চুড়ি, ৫ আনা ওজনের একটি আংটিসহ অন্যান্য অলংকার রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হরেন্দ্র নাথ চন্দ্র বর্মনের দাবি, পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ হয়ে পড়ার সুযোগে দুর্বৃত্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, ‘এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।’
-টিএস