চট্টগ্রামে দুই ব্যক্তিকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে জুয়া মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে প্রায় ১৮ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর সিএমপির এক সহকারী কমিশনারকে প্রত্যাহার করে দামপাড়া পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় দুই এএসআইকে ক্লোজড করা হয়েছে।
সোমবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তিনি জানান, ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্তরা হলেন সিএমপির ল’ফুল ইন্টারসেপ্টেড সেলের সহকারী কমিশনার শরিফুল আলম সুজন এবং একই সেলের এএসআই বাছির উদ্দিন। ক্লোজড হওয়া অপর এএসআই হলেন রেশন স্টোরের আবু সুফিয়ান।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৪ সেপ্টেম্বর সকালে শরিফুল আলমের নেতৃত্বে সাদা পোশাকের একদল পুলিশ হালিশহরের কে ব্লকের একটি বাসা থেকে ব্যবসায়ী আখতারুজ্জামান শাকিল (২৭) ও তার বন্ধু মনসুর আলীকে তুলে নেয়। পরে তাদের একটি ব্যক্তিগত গাড়িসহ সিএমপির এলআইসি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে মোবাইল ফোন জব্দ করে ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি অন্য একটি যন্ত্রে স্থানান্তর করা হয় বলে অভিযোগ।
শাকিলের দাবি, ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়া এবং জুয়া মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়। একপর্যায়ে তার ক্রিপ্টোকারেন্সি হিসাব থেকে তিন দফায় ১০ হাজার ৮৬৪ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা, স্থানান্তর করতে বাধ্য করা হয়।
এরপর রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে তিন কনস্টেবল তাকে একটি ব্যাংকের বুথে নিয়ে পাঁচ দফায় আরও ৪ লাখ টাকা তুলতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ করেন শাকিল। একই সময়ে এলআইসি কার্যালয়ে থাকা অবস্থায় একটি মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব থেকেও ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, তাদের নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর সাদা কাগজে লিখিয়ে স্বাক্ষর নেওয়ার পাশাপাশি ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে রাত ১২টার দিকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরদিন ব্যক্তিগত গাড়িটি ফেরত দেওয়া হলেও আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
পুলিশ বলছে, অভিযোগের তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এফএস