নীলফামারীর জলঢাকায় একই নামে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বিদ্যালয় দুটির কার্যক্রমও চলছে শুধু কাগজ-কলমে। দুটি ভিন্ন ম্যানেজিং কমিটির পক্ষপাতিত্ব ও রশি টানাটানিতে বিঘ্নিত হচ্ছে পাঠদান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা ও জানা যায়, উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের গাবরোল পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-১ ও গাবরোল পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-২ নামে বিদ্যালয় দুটি রয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিহীন বিদ্যালয় দুটির সামনে ‘গাবরোল পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ নামীয় দুটি সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা যায়।
বিদ্যালয় দুটির একটি ১৯৯৪ সালে এবং অপরটি ১৯৯৯ সালে স্থাপিত হলেও শিক্ষক-শিক্ষার্থী না থাকায় একটির টিনের চাল ও বাঁশের বেড়া ভেঙে পড়েছে। অপরটি পরিণত হয়েছে গোচারণ ভূমিতে।
ওই এলাকায় শিক্ষার বিস্তারের জন্য প্রতিষ্ঠা করা বিদ্যালয় দুটির একটির মূল কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৪ সালে। এদিকে একই নামে দুটি বিদ্যালয়ের দুই পক্ষের রেষারেষিতে একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায় পাঠদানের সব কার্যক্রম। ফলে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৩ মার্চ ‘গাবরোল পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ নামে সরকারি করণের গেজেট প্রকাশ করে সরকার। ওই বিদ্যালয়টি সরকারি করণের গেজেট প্রকাশের পর ২০১৮ সাল থেকে বিদ্যালয় নিয়ে দুই পক্ষের মামলা চলমান থাকায় শিক্ষকদের চাকরির সরকারি গেজেট না হওয়ায় বিদ্যালয়ের সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা ফেরত যাচ্ছে এবং শিক্ষকরা এসব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জলঢাকায় মোট ২৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ২৪৮টি বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বাকি একটির কার্যক্রম নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
সমস্যা সৃষ্টি হওয়া উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের গাবরোল পূর্বপাড়া-১ ও গাবরোল-২ নামে দুটি বিদ্যালয়ের কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু গেজেট হয়েছে ‘গাবরোল পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ নামে।
ওই বিদ্যালয়ের এক পক্ষের প্রধান শিক্ষক দুলাল হোসেন বলেন, “এই বিদ্যালয় নিয়ে হাইকোর্টে মামলা চলমান থাকায় আমি এখন কিছু বলতে ও করতে পারব না। তবে হাইকোর্ট যে রায় দেবেন, তা মেনে নেব।”
অপর পক্ষের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জানান, ওই বিদ্যালয়ের মামলায় হাইকোর্ট দুটি বিদ্যালয়কে বহাল রেখে রায় দেন। সরকার একটি বিদ্যালয় বহাল রাখার জন্য হাইকোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, কোনো বিদ্যালয়ের নামে সরকারি গেজেট হলে ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলমান থাকবে।
এদিকে দুই পক্ষের রেষারেষি বন্ধ করে বিদ্যালয়টিকে মানসম্পন্ন শিক্ষাদানের উপযোগী করে গড়ে তুলে শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান/এফএস