মৌলভীবাজারে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ও বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) পরিচয়ে হোয়াটসঅ্যাপে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের কাছে পুলিশ বক্স স্থাপনে সহায়তার কথা বলে অর্থ চাওয়া হচ্ছে।
জেলা পুলিশের কর্মকর্তাদের নাম, পদবি, ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে এসব প্রতারণামূলক বার্তা পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
সোমবার সন্ধ্যায় জেলা পুলিশের গণমাধ্যম শাখা থেকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, সম্প্রতি জেলার একাধিক ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে অর্থ দাবি করা হয়। কখনো পুলিশ বক্স স্থাপনে সহায়তার কথা বলে, আবার কখনো পুলিশের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে টাকা চাওয়া হচ্ছে। এসব বার্তায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নাম, ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করা হচ্ছে।
পুলিশের ধারণা, সংঘবদ্ধ একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে কর্মকর্তাদের পরিচয় নকল করে এ প্রতারণা চালাচ্ছে। চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
প্রতারণার ফাঁদ থেকে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করতে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে জেলা পুলিশ। কোনো পুলিশ বা প্রশাসনিক কর্মকর্তার পরিচয়ে হোয়াটসঅ্যাপ, ফোনকল কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অর্থ বা চাঁদা দাবি করা হলে কোনোভাবেই টাকা না দিতে বলা হয়েছে।
এ ধরনের বার্তা বা ফোনকল পেলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অথবা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় ও দাবির সত্যতা যাচাই করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি প্রতারণামূলক বার্তার ছবি, ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করতে বলেছে পুলিশ। কেউ ইতোমধ্যে প্রতারণার শিকার হয়ে থাকলে কিংবা এমন কোনো বার্তা পেয়ে থাকলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করে অভিযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জেলা পুলিশ বলছে, কর্মকর্তার নাম, ছবি বা পদবি ব্যবহার করলেই কোনো ব্যক্তিকে প্রকৃত কর্মকর্তা হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। আর্থিক লেনদেনের আগে অবশ্যই পরিচয় ও দাবির সত্যতা যাচাই করতে হবে। বিভ্রান্তিকর বার্তায় সাড়া না দিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ।
সালাহউদ্দিন শুভ/এফএস