ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
মীরেরবাড়ীতে সবজির সবুজ বিপ্লব
✎ অবজারভার প্রতিনিধি
⏲ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

ভোরের আলো ফুটতেই কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের মীরেরবাড়ী গ্রামের মাঠে শুরু হয় কৃষকদের কর্মব্যস্ততা। কেউ জমিতে সবজির পরিচর্যা করছেন, কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত ফসল সংগ্রহে। বেগুন, করলা, লাউ, শিম থেকে শুরু করে পাতাকপি ও ফুলকপি। বছরের প্রায় প্রতিটি মৌসুমেই সবুজে ভরে থাকে গ্রামের মাঠ। তাই স্থানীয়দের কাছে মীরেরবাড়ী এখন পরিচিত হয়ে উঠেছে ‘সবজির রাজ্য’ হিসেবে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ছিনাইয়ের মীরেরবাড়ী গ্রামে বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে সবজির সমারোহ। যেদিকেই চোখ যায়, সেদিকেই শুধু সবুজ আর সবুজ।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে রাজারহাট উপজেলায় সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৬০ হেক্টর। এর মধ্যে শুধু মীরেরবাড়ীতেই আবাদ হয়েছে প্রায় ৪০০ হেক্টর জমিতে, যা উপজেলার মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৫৩ শতাংশ। একটি গ্রামেই প্রায় ৮০০ কৃষক সরাসরি সবজি চাষের সঙ্গে যুক্ত।

কৃষকরা জানান, মীরেরবাড়ীর দোআঁশ মাটি ও তুলনামূলক উঁচু জমি সবজি চাষের জন্য বেশ উপযোগী। অতিরিক্ত পানি জমে না থাকায় বিভিন্ন মৌসুমে সবজির ভালো ফলন পাওয়া যায়। পাশাপাশি বাজারে চাহিদা ও তুলনামূলক ভালো দাম থাকায় ধানের পরিবর্তে অনেক কৃষক সারা বছর সবজি চাষ করছেন।

স্থানীয় কৃষক জাহেরুল ইসলাম বলেন, “আমি সারা বছর আমার জমিতে নানা ধরনের সবজি চাষ করি। আমাদের এই মাটিতে ভালো ফলন হয়। অল্প সার দিয়েই ভালো আবাদ করা যায়, লাভও ভালো।”

তিনি জানান, ৫০ শতক জমিতে পাতাকপি এবং ৬০ শতক জমিতে ফুলকপি চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে এসব জমি থেকে প্রায় ২ লাখ টাকার সবজি বিক্রির আশা করছেন তিনি।

এ ছাড়া ৪০ শতক জমিতে হলুদ চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। সেখান থেকে প্রায় ১ লাখ টাকার হলুদ বিক্রির প্রত্যাশা করছেন তিনি।

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু সমস্যার কথাও জানিয়েছেন কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, সার কিনতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। অনেক সময় চাহিদামতো সার পাওয়া যায় না। পাশাপাশি কীটনাশকের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বেড়েছে উৎপাদন খরচ। সবচেয়ে বড় অভিযোগ, মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে উৎপাদিত সবজির ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা।

স্থানীয় পাইকার দুলু মিয়া বলেন, মীরেরবাড়ীর সবজি রাজারহাটের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়। তার দাবি, কৃষকের কাছ থেকে ৩০ টাকা দরে কেনা সবজি বাইরে প্রায় ৫০ টাকা দরে পাঠানো হয়। খুচরা বাজারে সেই সবজি আরও বেশি দামে বিক্রি হয়।

রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় জানান, গত অর্থবছরে মীরেরবাড়ীতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০০ হেক্টর এবং অর্জনও হয়েছে ৪০০ হেক্টর।

সার সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে কোনো সার সংকট নেই। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সার সরবরাহ করা হচ্ছে।

কৃষকদের উৎপাদিত সবজি স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হওয়ায় মীরেরবাড়ীর সবজি চাষ এখন গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কৃষকদের মতে, ন্যায্যমূল্য, সার ও কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলে সবজি চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে।

 প্রহ্লাদ মণ্ডল সৈকত/এফএস
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement