ভয়াবহ বন্যার ক্ষত না শুকাতেই ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে নেপাল। একই সময়ে চীনের তিব্বত অঞ্চলেও ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের পর তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৩৮ মিনিটে নেপালে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) ও ইউরোপিয়ান-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৪৩ কিলোমিটার গভীরে।
অন্যদিকে, বুধবার তিব্বত অঞ্চলে ৫.৩ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ইএমএসসির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে।
নেপালে ভূমিকম্পের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন দেশটি সম্প্রতি ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। গত ২৬ আগস্ট বন্যায় নেপালের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভোতিকোশি ও এর শাখানদীর একটি ব্যারিয়ার হ্রদ ভেঙে যাওয়ার পর সৃষ্ট বন্যায় বাড়িঘর, সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ও জলবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বন্যার পর থেকে এখনো নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও দুর্যোগ মোকাবিলা বিভাগের সদস্যরা। দুর্গম এলাকা ও ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজদের সন্ধান চলছে।
এর মধ্যেই নতুন করে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় নেপালের দুর্গত এলাকাগুলোতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে ভূমিকম্পের কারণে নতুন কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিব্বতেও ভূমিকম্পের পর কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। দুই অঞ্চলের পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এফএস