পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ে আছেন। আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, তাতে তিনি ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র সেন্ট লুসিয়ায় যাননি। তাকে দুবাই থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মীর আহমদ বিন কাসেম তার প্রস্তাবে বেনজীর আহমেদকে সেন্ট লুসিয়া থেকে ফিরিয়ে আনার কথা বলেছিলেন।
এর সংশোধন করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আপনার তথ্যে কিছুটা ঘাটতি আছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আপনি বলেছেন, বেনজীর সেন্ট লুসিয়ায় চলে গেছেন।
‘কিন্তু আমরা দূতাবাসের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে খোঁজ নিয়েছি। তারা জানিয়েছেন, এমন কোনো বিষয়ে তারা অবগত নন। তার মানে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতেই অবস্থান করছেন।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দূতাবাস সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সতর্ক করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে তার ওপর নজর রাখার অনুরোধ করেছে। আমরা তা করব। বিচারের দীর্ঘ হাত দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া প্রত্যেক সন্ত্রাসীকে টেনে-হিঁচড়ে ফিরিয়ে আনবে।’
আমিরাতের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আমাদের কোনো সক্রিয় দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ (বন্দি বিনিময়) চুক্তি নেই। তবে প্রতিটি আলাদা ঘটনার ভিত্তিতে বিশেষ বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। আমরা কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করব। স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কঠোর পরিশ্রম করছে। আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সক্রিয় কূটনীতি চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে বিশেষ বিবেচনায় জঘন্য এই হত্যাকারীকে ফিরিয়ে আনতে পারি।’
বেনজীর আহমেদকে ‘খুনি’ ও ‘জাতির দুশমন’ আখ্যা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে দেশের মানুষকে নিপীড়নকারী অপশক্তির বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই খুনি শুধু আপনাদের (জামায়াত) বা বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেনি, সে সাধারণ মানুষকেও হত্যা করেছে, মিথ্যা মামলা দিয়েছে। সে দেশের দুশমন, জাতির দুশমন। তার বিরুদ্ধে আমাদের এক হতে হবে।’
সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের কাছ থেকে আপনি যে নিপীড়নের মধ্য দিয়ে গেছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা আপনাকে কখনোই কেবল জামায়াতে ইসলামীর সদস্য হিসেবে দেখিনি, একজন বিরোধীদলীয় কর্মী হিসেবে দেখেছি; যাকে এক ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হতে হয়েছিল এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।’
গুম হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেশে আরও যারা হেফাজতে আছেন, তাদের মধ্যে কর্নেল জিয়াও রয়েছেন। আমরা জানতে পেরেছি যে, তিনি সিলেট অঞ্চলের বিশিষ্ট সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীকে গুম করার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। শুনছি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। এতগুলো বছর ধরে একজন মানুষ নেই! সরকার এই বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের সরকার ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার আওতায় সেই অপরাধীদের প্রত্যেককে ধরে তাদের বিচার করতে সফল হবে। দেশ লুটে ও মানুষ হত্যা করে যারা পালিয়েছে, সবাইকে ধরে আনা হবে। দলমত নির্বিশেষে আপনাদের সবাইকে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকতে হবে।’
আরএন