রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে প্রথমবারের মতো সরাসরি সড়ক সেতু চালু হয়েছে। তুমেন নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি দুই দেশের সীমান্তবর্তী শহর রাসন ও খাসানকে যুক্ত করেছে। এর ফলে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন আরও সহজ হবে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সেতুটি জনবল চলাচল, পর্যটন ও বাণিজ্যে ব্যবহৃত হবে। রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন এটিকে দুই দেশের বন্ধুত্বের ‘নতুন প্রতীক’ এবং উত্তর কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী পাক থে সং একে ‘ঐতিহাসিক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
রুশ সংবাদ সংস্থা তাসের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন সেতুটি দিয়ে সর্বোচ্চ ৩০০টি যানবাহন ও ২ হাজার ৩২৩ জন মানুষ চলাচল করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে পণ্য পরিবহনে সেতুটি ব্যবহার করা হবে; পরে যাত্রী পরিবহনও শুরু হবে।
তবে সেতুটির সামরিক ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ইউক্রেনভিত্তিক তদন্তকারী সংস্থা ট্রুথ হাউন্ডসের দাবি, সেতুটির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হতে পারে রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য উত্তর কোরিয়ার সামরিক সরঞ্জাম ও জনবল পরিবহনের একটি গোপন লজিস্টিক রুট তৈরি করা।
রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ২০২৪ সালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উত্তর কোরিয়া সফরের সময় দুই দেশ একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি করে। এতে কোনো দেশ আগ্রাসনের শিকার হলে একে অপরকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে রাশিয়াকে বিপুল পরিমাণ রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করেছে। পাশাপাশি প্রায় ১১ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা রাশিয়ায় ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৫ সালে এবং ৪৯৫ দিনে তা শেষ হয়। এর আগে দুই দেশের মধ্যে সড়ক যোগাযোগের জন্য রেলসেতুর ওপর অস্থায়ী কাঠের ব্যবস্থা ব্যবহার করা হতো।
নতুন সেতুর মাধ্যমে শুধু বাণিজ্য ও পর্যটন নয়, উত্তর কোরীয় শ্রমিকদের রাশিয়ায় যাতায়াতও বাড়তে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার এক হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়ার নির্মাণ ও বনশিল্পে প্রায় ১০ হাজার উত্তর কোরীয় শ্রমিক কাজ করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সামরিক, অর্থনৈতিক ও শ্রম সহযোগিতা বাড়ার মধ্যেই নতুন সড়ক সেতুটি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করার সুযোগ তৈরি করেছে।
-বিবিসি/এফএস