
সংগৃহীত ছবি
দেশের খনিজ বালু শিল্পের গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্ভাবনাময় খনিজ সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (BAEC) এবং এভারলাস্ট মিনারেলস লিমিটেড (EML)-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
আজ (মঙ্গলবার) ঢাকায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম. মঈনুল ইসলাম এবং এভারলাস্ট মিনারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসাইন টিটু নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন।
এ সমঝোতা স্মারকের আওতায় দেশের খনিজ বালু শিল্পের উন্নয়নে শিল্পভিত্তিক গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে পারস্পরিক সহযোগিতা, তথ্য ও জ্ঞান বিনিময় এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এ লক্ষ্যে উভয় প্রতিষ্ঠান নদী ও দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় দ্বীপাঞ্চল, বিশেষ করে ভোলা, পটুয়াখালী ও নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন এলাকায় খনিজ বালুর নমুনার ভৌত ও রাসায়নিক বিশ্লেষণসহ প্রয়োজনীয় গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, “দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান, গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলা জরুরি। এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে খনিজ বালুর সম্ভাবনাময় সম্পদের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও শিল্পে ব্যবহারযোগ্যতা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি হলো, যা ভবিষ্যতে দেশের শিল্পায়ন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।”
সমঝোতা অনুযায়ী, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের পক্ষে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার জিওলজিক্যাল সায়েন্সেস (INGS) সংশ্লিষ্ট মাঠ ও পরীক্ষাগারভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। কমিশন নিজস্ব সুবিধায় সংগৃহীত বালুর নমুনা বিশ্লেষণ করবে। অপরদিকে, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে প্রয়োজন অনুযায়ী এভারলাস্ট তাদের আধুনিক হাইড্রলিক কোর ড্রিল রিগ ও নৌযান সরবরাহ করবে এবং উভয় পক্ষের মাঠপর্যায়ের টিমের প্রয়োজনীয় সফর ব্যয় বহন করবে।
এছাড়া খনিজ বালুর মিনারেলজি, জিওকেমিস্ট্রি ও মেটালার্জি বিষয়ে বিস্তারিত গবেষণা, নির্দিষ্ট খনিজের নমুনা সংগ্রহ, খনিজ পৃথকীকরণ, বালুর গুণগত মান ও গঠন বিশ্লেষণ, আপগ্রেডেশন প্রযুক্তি এবং দেশের শিল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী খনিজ বালুর ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে যৌথভাবে কাজ করা হবে। এসব কার্যক্রম দেশের শিল্প ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।
সমঝোতার স্মারকে আরও উল্লেখ করা হয় কমিশনের প্রতিনিধিরা এভারলাস্টের অনুসন্ধান/খনন প্রকল্প ও খনিজ বালু প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট পরিদর্শন করতে পারবেন। পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে গবেষণাগার, গবেষণা সুবিধা ও অন্যান্য সহযোগিতামূলক কার্যক্রমও গ্রহণ করা যাবে।
এই সমঝোতা স্মারকের প্রাথমিক মেয়াদ তিন বছর। উভয় পক্ষের লিখিত সম্মতির ভিত্তিতে পরবর্তী মেয়াদে এটি নবায়ন করা যাবে। সমঝোতাটি কোনো ব্যবসায়িক চুক্তি নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো পক্ষের সরাসরি আর্থিক সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্য নেই; বরং দেশের খনিজ বালু শিল্পের গবেষণা ও উন্নয়ন এবং এর মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নই এর মূল লক্ষ্য।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল খায়ের মোহাম্মদ আক্কাস আলী, যুগ্মসচিব শেখ মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার জিওলজিক্যাল সায়েন্সেসের পরিচালক ড. মো. গোলাম রাসুলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং এভারলাস্ট মিনারেলস লিমিটেডের সিনিয়র কনসালট্যান্ট মো. খায়রুল ইসলাম ও জেনারেল ম্যানেজার মো. বাহারুল আলম বিশ্বাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
টিআইএস