পাবনার আটঘরিয়ায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও সাবেক ইউপি সদস্য আদম আলীকে (৬০) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলার আসামি ইরাদুল ইসলামকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের চণ্ডীপাশা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একদন্ত বাজার থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে আহম্মেদ আলীর বাড়ির সামনে আদম আলীর পথরোধ করে দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করা হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত আদম আলী একদন্ত ইউনিয়নের ষাটগাছা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন বলে জানিয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম হোসেন।
খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে আটঘরিয়া থানায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৫ থেকে ৭ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
মামলার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে র্যাব-১২-এর একটি দল গোপালপুর তাতিপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইরাদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, দুটি সিম ও নগদ ১ হাজার ৭৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
আটঘরিয়া থানার ওসি নাজমুল হক বলেন, নিষিদ্ধ চরমপন্থি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ষাটগাছা গ্রামের এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আদম আলী প্রধান আসামি ছিলেন। ওই মামলায় র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
প্রায় এক বছর কারাগারে থাকার পর সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরেছিলেন আদম আলী। এর পরই সোমবার বিকেলে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এফএস