বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক কোচ যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ এক পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে বাংলাদেশে নিজের দায়িত্ব পালন, দলের পারফরম্যান্স, ফুটবলের অবকাঠামো ও সমালোচনার পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে পাওয়া গালাগালি, তথ্য ফাঁস ও হত্যার হুমকির কথাও জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে দায়িত্ব নেওয়ার সময় তার পরিকল্পনায় শুধু জাতীয় দল নয়, যুব উন্নয়ন, প্রতিভা খোঁজা, কোচ উন্নয়ন ও প্রবাসী খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্ত করার মতো দীর্ঘমেয়াদি বিষয় ছিল। কিন্তু মাত্র প্রায় নয় সপ্তাহ খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাওয়ায় এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ সীমিত ছিল।
সাবেক এই কোচ দাবি করেন, বাংলাদেশে প্রস্তুতির সময় দলটি বল দখলে রাখা, আক্রমণে ওঠা, হাই প্রেসিং ও কাউন্টার প্রেসিংয়ে উন্নতি দেখিয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক ম্যাচে সেই পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারেনি দল।
দলের ফলাফল নিয়ে সমালোচনা মেনে নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ফুটবলের সিদ্ধান্ত ও পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা স্বাভাবিক। তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ, গালাগালি ও হত্যার হুমকি গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি লেখেন, ‘আমি কুরুচিপূর্ণ বার্তা, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস এবং হত্যার হুমকি পেয়েছি। আর এসব কেন? একজন কোচ ও খেলোয়াড়ের পেছনেও একজন মানুষ থাকে। আমি একজন স্বামী, বাবা ও সন্তান।’
বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে নিজের মূল্যায়নে তিনি বলেন, নিয়োগব্যবস্থা, অবকাঠামো, সংস্কৃতি ও উচ্চমানের খেলোয়াড় আকর্ষণের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন না এলে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সাফল্য পাওয়া কঠিন। অতীতের বিভিন্ন ম্যাচের ফলাফল উল্লেখ করে তিনি জানান, এবার পরিস্থিতি বদলানোর আশা করেছিলেন, কিন্তু তা হয়নি।
তবে বাংলাদেশে কাজের অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন তিনি। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কোচ ও বিশ্লেষকদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা এবং কৌশলগত ধারণা নিয়ে আলোচনা তাকে অনুপ্রাণিত করেছে বলেও জানান।
পোস্টের শেষ দিকে সাবেক কোচ বলেন, বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন তার ক্যারিয়ারের আরেকটি অধ্যায় মাত্র। এখন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছেন এবং নিজের অভিজ্ঞতা, কৌশল ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতি অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
-এফএস