লড়াই করেছে বাংলাদেশ, তবে শেষ হাসি হাসতে পারেনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১১৫ রানের লক্ষ্য দিয়ে জয় তুলে নিতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১১৪ রান করার পরও শেষ পর্যন্ত হার্শিতা সামারাবিক্রমার দৃঢ় ব্যাটিংয়ের কাছে হার মানতে হয়েছে টাইগ্রেসদের।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। দিলারা আক্তার ২৬ বলে ২৬ এবং জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ১০ বলে ১৪ রান করে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন। তবে মাঝের ওভারে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
এক প্রান্ত আগলে রেখে ইনিংস বড় করার চেষ্টা করেন সোবহানা মোস্তারি। ৪১ বলে ৩৪ রানের ইনিংসে চারটি বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। তবে শেষদিকে প্রত্যাশিত গতিতে রান তুলতে না পারায় নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১১৪ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস।
শ্রীলঙ্কার হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন চামুদি প্রাবোধা। ৪ ওভারে মাত্র ২১ রান খরচ করে ৩টি উইকেট তুলে নেন তিনি। সুগান্দিকা কুমারি নেন ২ উইকেট।
জবাবে ১১৫ রানের লক্ষ্যে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। মারুফা আক্তারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ইমেশা দুলানি ও অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু দ্রুত সাজঘরে ফেরেন। ফলে ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনাও জোরালো হয়ে ওঠে।
তবে বাংলাদেশের সেই আশায় বাধা হয়ে দাঁড়ান হার্শিতা সামারাবিক্রমা। দারুণ ধৈর্য ও নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে একদিকে উইকেট ধরে রাখেন, অন্যদিকে সুযোগ পেলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে লক্ষ্যকে নাগালের মধ্যে রাখেন। শেষ পর্যন্ত ৩৭ বলে অপরাজিত ৪৮ রান করে শ্রীলঙ্কার জয়ের মূল কারিগর হন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ২টি ছক্কা।
হার্শিতাকে সঙ্গ দেন নিলাক্ষিকা সিলভা ও কৌশিনি নুথ্যাঙ্গানা। নিলাক্ষিকা করেন ২৩ বলে ১৮ রান। আর কৌশিনি ৯ বলে অপরাজিত ১১ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
বাংলাদেশের হয়ে মারুফা আক্তার ৩টি উইকেট নিয়ে শেষ পর্যন্ত লড়াইটা জিইয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু ব্যাটারদের গড়া ১১৪ রানের পুঁজি জয়ের জন্য যথেষ্ট হলো না।
শেষ পর্যন্ত লড়াই করেও হার বাংলাদেশের। অল্প রানের পুঁজি নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে চাপে ফেলেছিল টাইগ্রেসরা, কিন্তু হার্শিতার অপরাজিত ৪৮ রানের ইনিংস সব হিসাব বদলে দেয়। শেষ হাসি হাসে শ্রীলঙ্কা, আর তীরে এসে স্বপ্নভঙ্গ হয় বাংলাদেশের।
এফএস