আফ্রিকার মাটিতে সম্ভাব্য নতুন টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের প্রথম আসরেই শিরোপা জিতে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাল দক্ষিণ আফ্রিকা। পূর্ণ শক্তির দল না নিয়েও পুরো সিরিজে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে শেষ পর্যন্ত ট্রফি নিজেদের করে নিয়েছে প্রোটিয়ারা।
শিরোপা জয়ের পথে দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাদের ভারসাম্যপূর্ণ দল। ব্যাটিংয়ে ডেওয়াল্ড ব্রেভিস, লুয়ান-দ্রে প্রিটোরিয়াস ও কনর এস্টারহুইজেনের মতো তরুণরা নিজেদের মেলে ধরেছেন। তবে ফাইনালে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেয় বোলিং আক্রমণ।
ফাইনালে ইথান বশ ও ডুয়ান জানসেন মিলে পাঁচটি উইকেট তুলে নিয়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে ফেলে দেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাত্র তৃতীয় ম্যাচ খেলতে নামা বশ শুরুতেই বেন কারানকে প্রথম বলেই ফিরিয়ে দেন। অন্যদিকে জানসেন নিজের গতি, বাউন্স ও বৈচিত্র্যময় লেংথ দিয়ে একের পর এক ব্যাটারকে বিপাকে ফেলেন।
পুরো সিরিজে দুর্দান্ত বোলিং করে জানসেন শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হন। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সাফল্যও এসেছে তার হাতে।
এই জয় শুধু একটি ট্রফি জয়ের গল্প নয়। আফ্রিকার ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার নেতৃত্বও আরও একবার প্রতিষ্ঠিত হলো। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক বিজর্ন ফোরটুইনের মতে, মহাদেশে ক্রিকেটের উন্নয়নে দক্ষিণ আফ্রিকারও দায়িত্ব রয়েছে। বড় দর্শকভিত্তি ও শক্তিশালী ক্রিকেট কাঠামোর কারণে অন্য আফ্রিকান দেশগুলোর উন্নতিতে তারা ভূমিকা রাখতে চায়।
তবে শিরোপা জয়ের পথে দক্ষিণ আফ্রিকাকে চ্যালেঞ্জও দিয়েছে নামিবিয়া। প্রথম ম্যাচেই প্রোটিয়াদের হারিয়ে চমক দেখানো স্বাগতিকরা পরবর্তীতে আরও কয়েকটি ম্যাচকে শেষ ওভার পর্যন্ত নিয়ে যায়।
সব মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে ট্রফি উঠলেও এই টুর্নামেন্ট আফ্রিকার ক্রিকেটের জন্যও রেখে গেল নতুন সম্ভাবনার বার্তা। আর প্রথম আসরেই শিরোপা জিতে দক্ষিণ আফ্রিকা বুঝিয়ে দিল। আফ্রিকার ক্রিকেটে রাজত্ব এখনো তাদেরই।
এফএস