ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে তিন আবাসিক মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর মাদ্রাসায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আবুল বাশারকে (৩৩) আটক করে। রাতেই তাঁর বিরুদ্ধে থানায় মামলা হলে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আবুল বাশার কোটচাঁদপুর উপজেলার হরিন্দিয়া গ্রামের মৃত আমিনুল ইসলামের ছেলে। তিনি কোটচাঁদপুর পৌরসভার দুধসর এলাকার দারুল উলুম মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক। অভিযোগকারী তিন শিক্ষার্থী ওই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, কয়েক দিনের ব্যবধানে তিন শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে আবুল বাশারের বিরুদ্ধে। সোমবার এক শিক্ষার্থী তাঁর দাদার কাছে বিষয়টি জানালে ঘটনাটি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জানাজানি হয়।
এরপর সন্ধ্যার দিকে শিক্ষার্থীর স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের ওপর চড়াও হন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আবুল বাশারকে হেফাজতে নেয় তারা।
পরে রাতে এক শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে কোটচাঁদপুর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, তিন শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়। পরে ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর বাবার করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আবুল বাশারের কক্ষ থেকে যৌন উত্তেজক হিসেবে ব্যবহৃত কিছু হারবাল ওষুধও উদ্ধার করা হয়েছে।
ওসি জানান, গ্রেপ্তার আবুল বাশারকে মঙ্গলবার সকালে আদালতে পাঠানো হবে।
এদিকে এক অভিভাবক বলেন, সন্তানের সঙ্গে এমন ঘটনার কথা জানার পর তিনি তাঁকে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে এসেছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার দাবি করেন।
এফএস