মাদক, কিশোর গ্যাং, ছিনতাইকারী, ডাকাত, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত তিন দিনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নবাগত পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ চাষাঢ়া রেলস্টেশন এলাকায় জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, অভিযানের প্রথম দিনে ১২২ জন এবং দ্বিতীয় দিনে ১১২ জনকে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তৃতীয় দিনেও জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তাঁর নেতৃত্বে চাষাঢ়া রেলস্টেশন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে মাদকসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, মাদক, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, ডাকাতি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও নাশকতার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা—এসব অপরাধের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। থানার সিনিয়র কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
মো. হাবিবুর রহমান আরও বলেন, “নারায়ণগঞ্জের মানুষ মাদকের ভয়াবহ যন্ত্রণায় অস্থির। মাদকের কারণে পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে। সাধারণ মানুষ ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ছে। চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসায়ীরাও স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে জেলা পুলিশের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।”
তিনি নারায়ণগঞ্জবাসী, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ সবার সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত।
পুলিশ সুপার জানান, ইতোমধ্যে রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক সমাজ জেলা পুলিশের চলমান অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। বিভিন্ন সংগঠনের লোকজনও পুলিশকে সহযোগিতা করছেন এবং বিভিন্ন স্থান থেকে অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য দিচ্ছেন।
তবে নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও পুলিশ সতর্ক রয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের কাছে পূর্বের ও বর্তমানে সক্রিয় মাদক স্পটগুলোর তালিকা রয়েছে। এসব তালিকার ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীদের কর্মকাণ্ড গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে নজরদারিতে রেখে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এসএস/আরএন