দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণসহ চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সিটি গ্রুপের মালিকানাধীন কর্ণফুলী চা-বাগানের শ্রমিকরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে কর্ণফুলী চা-বাগানের পঞ্চায়েত কমিটি ও চা-শ্রমিকদের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দুই ঘণ্টা কাজ বন্ধ রাখেন শ্রমিকরা। এ সময় বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সংবলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। পরে মানববন্ধনে অংশ নেন।
চা-শ্রমিক চট্টগ্রাম ভ্যালির সভাপতি নিরঞ্জন নাথ মন্টুর সভাপতিত্বে এবং কর্ণফুলী চা-বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি বিপ্লব কুমার দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন পঞ্চায়েত কমিটির সহসভাপতি শুক তাঁরা, সম্পর নায়ক, জাবেদ হোসেন, সবুজ কান্তি দে, শিপন দত্ত, মিলন রায়, মনিশা রায়, নিরু বালা প্রমুখ।
মানববন্ধনে নিরঞ্জন নাথ মন্টু বলেন, চা-শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। প্রায় দুই শতাব্দী ধরে চা-বাগানে বসবাস করলেও অধিকাংশ শ্রমিকের নিজস্ব জমির মালিকানা নেই। বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে ১৮৭ টাকা দৈনিক মজুরি কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই মজুরিতে একটি পরিবারের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করাও কঠিন। তাই দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করা এখন সময়ের দাবি।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন হচ্ছে না। শ্রম অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপমুক্ত পরিবেশে সংগঠনের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে হবে। চা-শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বর্তমান বাজারমূল্যে ১৮৭ টাকা মজুরি দিয়ে সন্তানদের পড়ালেখার খরচ চালানো তো দূরের কথা, নিজেদের জীবনযাপন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই আমরা দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি চাই।
চা-শ্রমিক নিরু বালা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান মজুরিতে পরিবার নিয়ে জীবনধারণ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও সে অনুযায়ী মজুরি বাড়েনি। ফলে তারা নানা সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। তাই দ্রুত দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানান তিনি।
চা-শ্রমিকদের চার দফা দাবিগুলো হলো- দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা ঘোষণা করা। চা-শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী গেজেট ও ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বাতিল করা। অবিলম্বে বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়ন (বি-৭৭)-এর শ্রম অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপমুক্ত সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা এবং চা-শ্রমিকদের আইনগতভাবে ভূমির মালিকানা ও অধিকার নিশ্চিত করা।
টিআইএস