রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় লাগামহীন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। একই সঙ্গে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোলট্রি জোন হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন মারাত্মক সংকটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে গোয়ালন্দে বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। একের পর এক লোডশেডিংয়ের কারণে দিনের পাশাপাশি রাতেও জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ।
গত এক সপ্তাহ ধরে দিন-রাতের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। সকাল, বিকেল, সন্ধ্যা, রাত ও গভীর রাতেও একাধিকবার বিদ্যুৎ বন্ধ ও চালু হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা।
তীব্র গরমে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পোলট্রি খাত। বিদ্যুৎ না থাকায় খামারগুলোতে বাধ্য হয়ে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এতে উৎপাদন ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত গরমে অনেক মুরগি অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানিয়েছেন খামারিরা।
গোয়ালন্দ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহমান বলেন, ‘নিয়মিত লোডশেডিং ও তীব্র গরমে পোলট্রি খামারিরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। জেনারেটর চালিয়ে খরচ সামলানো অসম্ভব হয়ে উঠছে। অনেক খামার বন্ধ হওয়ার পথে।’
হাসপাতালে বাড়ছে দুর্ভোগ
লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্যসেবাতেও। গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটর না থাকায় রোগীরা গরমে অস্বস্তিতে আছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জেনারেটর দীর্ঘদিন ধরে তেল সংকটের কারণে বিকল হয়ে পড়ে আছে। এতে লোডশেডিংয়ের কারণে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীরাও একই অভিযোগ করেছেন। বিশেষ করে শ্বাসকষ্টের রোগী ও বয়স্করা গরমে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।
শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় একই চিত্র। তবে গ্রামাঞ্চলে পল্লি বিদ্যুতের অবস্থা আরও খারাপ। সারাদিন ও রাতের তীব্র গরমে শিশুরা ঠান্ডা-কাশিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এতে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।
তাছাড়া সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। এইচএসসি পরীক্ষা সদ্য শেষ হলেও এখনো ব্যবহারিক পরীক্ষা রয়েছে। রাতের সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অনেককে মোমবাতি বা চার্জলাইটের আলোয় পড়াশোনা করতে হচ্ছে।
অধিকাংশ বিদ্যালয়ে জেনারেটর না থাকায় শ্রেণি কার্যক্রম চালানোও অসম্ভব হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা তীব্র গরমে শ্রেণিকক্ষে টিকতে পারছে না।
অন্যদিকে, অধিকাংশ অটোরিকশাচালক অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাটারি চার্জ দিতে পারেন না। এক বেলা গাড়ি চালালে আরেক বেলা বসে থাকতে হয়। এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) গোয়ালন্দ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রকৌশলী তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘গোয়ালন্দে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৭ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে সাড়ে ৩ মেগাওয়াট। চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতির কারণে বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে।’
এসআই/আরএন