কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত সংঘর্ষে শহিদুল ইসলাম (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
সোমবার দুপুরের দিকে খামার আন্ধারীঝাড় গ্রামের ব্রিজপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মবদুল ও সাবিনা নামের আরও দুজন আহত হয়েছেন। পুলিশ এ ঘটনায় ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত শহিদুল উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের খামার আন্ধারীঝাড় এলাকার কানিপাড়া গ্রামের আব্দুল শেখের ছেলে।
জানা গেছে, খামার আন্ধারীঝাড়ের আব্দুল শেখ ও শুক্কুর আলীর মধ্যে প্রায় আট শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা গ্রাম্য সালিশ ও ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়।
জানা গেছে, সোমবার দুপুরের দিকে শুক্কুর আলীসহ কয়েকজন ওই জমি চাষ করে রোপা আমনের চারা রোপণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষের শহিদুল ইসলাম ও তাঁর স্বজনেরা গিয়ে বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শহিদুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, মাছ ধরার কোঁচা (লোহার তৈরি মাছ ধরার যন্ত্র) দিয়ে শহিদুলকে আঘাত করা হয়।
খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন পুলিশের একটি দল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। মারামারি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ১৭ জনকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে।
ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল। সেই বিরোধ আজ মারাত্মক সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে একজন নিহত হয়েছেন। বিবাদমান এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তাৎক্ষণিক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে মারামারি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
এএইচ/আরএন