এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে সেরা হয়েছে রাঙ্গামাটির লেকার্স পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এ বছর প্রতিষ্ঠানটির ১৬১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাস করেছে। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৯ জন। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলেও ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ফল প্রকাশের পর এমন সাফল্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন লেকার্স পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। শিক্ষার্থীরা একে অপরকে অভিনন্দন জানিয়ে সাফল্যের আনন্দ ভাগ করে নেন। শিক্ষক ও অধ্যক্ষও কৃতী শিক্ষার্থীদের মিষ্টিমুখ করিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় লেকার্স পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মোট ১৬১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের সবাই উত্তীর্ণ হওয়ায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ১০০ শতাংশে। এর মধ্যে ৫৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। অর্থাৎ মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ৩৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করেছে। কোনো শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়নি।
তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেকার্সের শতভাগ পাসের হার প্রতিষ্ঠানটিকে শীর্ষে নিয়ে এসেছে। তুলনামূলক ফলাফলে খাগড়াছড়ি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাসের হার ৯৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাসের হার ৯৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। এর বিপরীতে লেকার্স পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাসের হার শতভাগ।
শুধু তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে নয়, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলেও প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ষষ্ঠ। ফলে এবারের এসএসসি ফলাফল রাঙ্গামাটির শিক্ষাঙ্গনে লেকার্স পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের জন্য বিশেষ অর্জন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাফল্য পাওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, এই ফলাফল একদিনে আসেনি। দীর্ঘদিনের নিয়মিত পড়াশোনা, কঠোর পরিশ্রম ও শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানের পাশাপাশি পরিবারের সহযোগিতাই তাদের এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।
শিক্ষার্থী জুঁই চাকমা বলেন, “আমাদের শিক্ষকরা পড়াশোনার ক্ষেত্রে সবসময় আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। পরিবার থেকেও পেয়েছি সর্বোচ্চ সহযোগিতা। নিজেদের পরিশ্রম, শিক্ষক ও পরিবারের সহযোগিতার ফলেই আমরা আজকের এই সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি।”
শিক্ষক তুষার কান্তি দাশ বলেন, “শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমের পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদান, একাডেমিক তদারকি এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার কারণেই ভালো ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়েছে।”
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মেজর মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন, “তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে প্রথম হওয়া এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ষষ্ঠ স্থান অর্জন লেকার্স পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। এ অর্জনের পেছনে শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিকতা এবং অভিভাবকদের সহযোগিতা রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানবিক ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে যাবে।”
ফল প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। কৃতী শিক্ষার্থীদের ঘিরে শিক্ষক ও সহপাঠীদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। কেউ সাফল্যের আনন্দে সহপাঠীদের সঙ্গে ছবি তুলছেন, কেউ আবার শিক্ষকদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন নিজেদের অর্জনের মুহূর্ত।
১৬১ জন পরীক্ষার্থীর শতভাগ পাস, ৫৯ জনের জিপিএ-৫ এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ষষ্ঠ স্থান—এই তিন অর্জনে এবারের এসএসসি ফলাফলে রাঙ্গামাটির শিক্ষাঙ্গনে নিজেদের সাফল্যের জানান দিয়েছে লেকার্স পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
এসআই/আরএন