দই-মিষ্টি তৈরির কারখানা। অথচ সেখানে খাবারের ওপর ব্যবহারের কাপড় রাখা, বাথরুমে তেলাপোকা, খোলা অবস্থায় মিষ্টি এবং আগের দিনের তৈরি দই বিক্রির জন্য সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। এমনকি একটি কারখানার ভেতরেই গোসলের ব্যবস্থাও পাওয়া গেছে।
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ঘোষপাড়া এলাকায় দুটি দই-মিষ্টির প্রতিষ্ঠানে বিশেষ মনিটরিং চালিয়ে এসব অনিয়মের সন্ধান পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের যৌথ দল। পরে প্রতিষ্ঠান দুটিকে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জরিমানার শিকার প্রতিষ্ঠান দুটি হলো চৈতি দধি ভান্ডার ও প্রান্ত দধি ভান্ডার। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫৩ ধারায় উভয় প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
অভিযানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পরিদর্শনের সময় চৈতি ও প্রান্ত দধি ভান্ডারে দই ও মিষ্টি তৈরির পরিবেশে স্বাস্থ্যবিধির নানা অনিয়ম দেখা যায়। খাবারের ওপর ব্যবহারের কাপড় রাখা ছিল। কারখানার বাথরুমে তেলাপোকা পাওয়া যায়। আগের দিনের তৈরি দই নতুন দইয়ের সঙ্গে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছিল। মিষ্টি সংরক্ষণ করা হচ্ছিল খোলা অবস্থায়। এ ছাড়া কারখানার ভেতরেই গোসলের ব্যবস্থাও দেখা যায়।
এসব অনিয়মের কারণে খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠান দুটির মালিক ও কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য সতর্ক করা হয়।
অভিযানে বগুড়ার জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. রাসেল, শেরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহমুদুল হাসান, উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক তাহমিনা বেগমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের সার্বিক নিরাপত্তায় শেরপুর থানা-পুলিশের একটি দল দায়িত্ব পালন করে।
কর্মকর্তারা জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ধরনের অভিযান ও মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এসএ/আরএন