রাঙ্গামাটিতে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার অর্ধেকের বেশি রোড পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে নবায়ন ছাড়াই এসব যানবাহন সড়কে চলাচল করায় একদিকে পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে সরকার প্রতিবছর প্রায় এক কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গামাটি জেলায় নিবন্ধিত প্রায় ১ হাজার ৪০০টি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মধ্যে ৭৩৩টির রোড পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়েছে। অর্থাৎ জেলার মোট সিএনজির প্রায় ৫৩ শতাংশই বর্তমানে মেয়াদোত্তীর্ণ পারমিট নিয়ে চলাচল করছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে রোড পারমিট নবায়ন না করায় সরকার নিয়মিত রাজস্ব হারাচ্ছে। পাশাপাশি এসব যানবাহনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর তদারকি না থাকায় অনেক সিএনজি অটোরিকশা নবায়ন ছাড়াই সড়কে চলাচল করছে।
রাঙ্গামাটি শহরের বাসিন্দা মো. সুমন বলেন, “শহরে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু এসব যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই বা বৈধতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান খুব একটা চোখে পড়ে না। এতে অনেকেই নিয়ম মানার বিষয়ে উদাসীন হয়ে পড়ছেন।”
পরিবহনসংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, রোড পারমিট নবায়নে কঠোর নজরদারি এবং বিআরটিএর কার্যকর তদারকি বাড়ানো গেলে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলাও ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে রাঙ্গামাটি বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক কে এম সালাহ উদ্দিন বলেন, “যেসব যানবাহনের রোড পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলোর মালিকদের নবায়নের জন্য বারবার আহ্বান জানানো হচ্ছে। অনবায়নকৃত যানবাহনের তালিকা পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী অভিযানও পরিচালনা করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পারমিট নবায়ন না করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা অন্যতম প্রধান গণপরিবহন। তাই এই খাতে নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে একদিকে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে, অন্যদিকে সড়ক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলাও আরও উন্নত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এসআই/আরএন