গাজীপুরের কালীগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে গোপনে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগে তার বাবাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে কালীগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুনশুরপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা।
দণ্ডপ্রাপ্ত মোহাম্মদ রাকিব (৩৪) মুনশুরপুর এলাকার মৃত আব্দুল মিয়ার ছেলে। বাল্যবিবাহের শিকার কিশোরী তারই মেয়ে। সে স্থানীয় মসলিন কটন মিল উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে গিয়ে বিবাহোত্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন বন্ধ করে দেয়। পরে কিশোরীর জন্মনিবন্ধনসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে দেখা যায়, তার প্রকৃত বয়স ১৪ বছর।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা বলেন, “মুনশুরপুর এলাকায় একটি বাল্যবিবাহের অনুষ্ঠানের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে অনুষ্ঠান বন্ধ করে নথিপত্র যাচাই করা হয়। জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী কনের বয়স ১৪ বছর হওয়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো মেয়ের বিয়ে দেওয়া নিষিদ্ধ। এ কারণে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর ৮ ধারায় কিশোরীর বাবা মোহাম্মদ রাকিবকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, প্রকৃত বয়স গোপন করে গত ৯ জুলাই নরসিংদী জেলা আদালতের একজন নোটারি পাবলিক আইনজীবীর মাধ্যমে একটি বিবাহের ঘোষণাপত্র তৈরি করা হয়। ওই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের আফিজ উদ্দিনের ছেলে আরিফ মিয়ার সঙ্গে কিশোরীর বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।
এনএস/আরএন