পটুয়াখালীর বাউফলে ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহকারী (সুপারভাইজার) নিয়োগের এমসিকিউ পরীক্ষার কেন্দ্রে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদারের ছেলে আকাশ তালুকদারের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, তিনি মোবাইল ফোন হাতে প্রায় ৩০ মিনিট পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরে অবস্থান করেন। এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) বাউফল উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
একাধিক পরীক্ষার্থী জানান, পরীক্ষা চলাকালে এমপি পুত্র আকাশ তালুকদার মোবাইল ফোন হাতে হলরুমে অবস্থান করেন। একজন বহিরাগত হিসেবে তার পরীক্ষার হলে অবস্থান করা এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস তথা মুঠোফোন বহন করায় পরীক্ষার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
পরীক্ষার্থী জসিম উদ্দীন বলেন, “পরীক্ষার হলে বহিরাগত ব্যক্তির উপস্থিতি আমাদের হতবাক করেছে। তার ওপর মোবাইল ফোন হাতে আকাশ তালুকদার পুরো সময় পরীক্ষার হলে ছিলেন, যা পরীক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ পরীক্ষার হলের বাইরে থেকে ভিডিও ধারণ করেছেন। এতে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
আরেক পরীক্ষার্থী জাফর ইকবাল বলেন, পরীক্ষার হলে প্রভাব খাটিয়ে বহিরাগত কারও মোবাইল ফোন হাতে অবস্থান করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা পুরোটা সময় তাকে মোবাইল ফোন হাতে দেখেছি।
পরীক্ষার্থী মো. মহিউদ্দীন বলেন, সরকারি একটি নিয়োগ পরীক্ষায় এমন ঘটনা দুঃখজনক। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।”
অভিযোগের বিষয়ে আকাশ তালুকদার বলেন, পরীক্ষার আগে আমি কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলাম। তবে বেশিক্ষণ থাকিনি। পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই চলে এসেছি।
এ বিষয়ে বাউফলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, “অবৈধভাবে কারও পরীক্ষার হলে থাকার সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। যদি সিসিটিভি ফুটেজে তার উপস্থিতির সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এএস/এসআর