ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে ড্রোন প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১০০ জন। এ ছাড়া দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে পৃথক রুশ হামলায় আরও পাঁচজন নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে রাশিয়ার হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে।
প্রতিরক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত ওই প্রদর্শনীতে দিনের বেলায় হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
পূর্বাঞ্চলীয় শহর স্লোভিয়ানস্কে রাশিয়ার গ্লাইড বোমা হামলায় পাঁচজন নিহত হন। এ ছাড়া শনিবার ভোরে উত্তরাঞ্চলীয় শহর সুমিতে রুশ হামলায় দুই ব্যক্তির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে ইউক্রেনের সামরিক কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলেনস্কি জানান, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাশিয়া আরও বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে।
অন্যদিকে শুক্রবার ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার কিরভ শহরে ছয়জন নিহত ও ২৬ জন আহত হন। ফ্রন্টলাইন থেকে এক হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরে অবস্থিত শহরটিতে একটি সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী কারখানা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। একই সঙ্গে রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজ-এর কয়েকটি গুদামেও আঘাত হানে ইউক্রেন।
কিয়েভের হামলার পর ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সেরহি বেস্ক্রেস্তনভ এবং সেনাবাহিনীর প্রযুক্তি উন্নয়নে যুক্ত লিউবা শিপোভিচের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে তারা সামাজিক মাধ্যমে জানান, দুজনই নিরাপদ আছেন। বেস্ক্রেস্তনভ বলেন, নিরাপত্তার শঙ্কায় তিনি ওই অনুষ্ঠানে যাননি।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত জানান, হামলায় তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। এর মধ্যে মাত্র একটি ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে।
হামলার দায় স্বীকার করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, যে স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে সেখানে রাশিয়ার বেসামরিক এলাকায় হামলার জন্য ব্যবহৃত ড্রোন প্রদর্শন করা হচ্ছিল। তাদের ভাষ্য, সেখানে ড্রোন নির্মাতাদের পাশাপাশি ইউক্রেনের ড্রোন ইউনিট ও নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন, যারা রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত।
২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর এ ধরনের ড্রোন প্রদর্শনীতে এটি তৃতীয় হামলা। এ ঘটনার পর ইউক্রেনে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এমন একটি জনসমাগমপূর্ণ অনুষ্ঠান কেন প্রকাশ্যে আয়োজন করা হলো এবং কেন সেটির ব্যাপক প্রচার চালানো হয়েছিল।
জেলেনস্কি বলেছেন, হামলার ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। ইউক্রেনের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ও জানিয়েছে, কারা এ অনুষ্ঠানের অনুমোদন দিয়েছিল এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে কিয়েভে হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইউক্রেন রাশিয়ার কিরভের একটি কারখানা এবং সেন্ট পিটার্সবার্গ অঞ্চলে ওয়াইল্ডবেরিজের অন্তত দুটি গুদামে হামলা চালায়।
জেলেনস্কির দাবি, কিরভের যে কারখানায় হামলা চালানো হয়েছে, সেটি রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান। সেখানে যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি হয়, যা ইউক্রেনে হামলায় ব্যবহৃত হচ্ছে।
ইউক্রেনের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে তারা তেল ডিপো ও শোধনাগারের পাশাপাশি লজিস্টিকস হাবেও হামলা চালাচ্ছে। কারণ, এসব স্থাপনা দিয়ে রুশ সেনাবাহিনীর জন্য সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ ও সরবরাহ করা হয়।
আগামী সপ্তাহে জেলেনস্কির যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা রয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ বৈঠক হতে পারে।
সূত্র: বিবিসি।
এসএ