নাইজারে সামরিক সরকার উৎখাতের একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে নতুন করে সামনে এনেছে। বিদ্রোহ দমনে রুশ বাহিনীর সহায়তা পাওয়ায় প্রেসিডেন্ট আবদুরাহামানে তচিয়ানির সরকারের টিকে থাকার ক্ষেত্রে রাশিয়ার ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৯ আগস্ট নাইজারের কয়েকজন সেনা রাজধানী নিয়ামে বিমানঘাঁটি, প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ ও রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারকেন্দ্রে সমন্বিত হামলা চালায়। তাদের লক্ষ্য ছিল প্রেসিডেন্ট তচিয়ানিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া। তবে সরকারি বাহিনী বিদ্রোহ দমন করতে সক্ষম হয়।
বিদ্রোহ দমনের সময় রাশিয়ার বিশেষ সামরিক বাহিনীর প্রায় ২০০ সদস্য ড্রোনসহ নাইজারের সরকারি বাহিনীকে সহায়তা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংঘর্ষে অন্তত ২৭ জন নিহত এবং প্রায় ১০০ বিদ্রোহী গ্রেপ্তার হন।
২০২৩ সালে নাইজারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমে আসে। পশ্চিমা বাহিনী সরে যাওয়ার পর দেশটির সামরিক সরকার নিরাপত্তা সহযোগিতার জন্য রাশিয়ার দিকে আরও বেশি ঝুঁকে পড়ে।
তবে রাশিয়ার সহায়তা সত্ত্বেও নাইজারের সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম পর্যায়ের সেনাদের মধ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এদিকে নাইজার, মালি ও বুরকিনা ফাসোর সামরিক সরকারগুলোর জোট নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নাইজারে সংকটের সময় জোটের অন্য সদস্যদের কার্যকর সহায়তা না দেওয়ার বিষয়টি জোটটির বাস্তব সক্ষমতা নিয়ে সংশয় তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নাইজারের সাম্প্রতিক বিদ্রোহ শুধু একটি ব্যর্থ ক্ষমতা দখলের চেষ্টা নয়; এটি দেশটির সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা এবং সামরিক সরকারের রুশ নিরাপত্তা সহায়তার ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতার বিষয়টিও স্পষ্ট করেছে।
এফএস