খুলনায় মাসব্যাপী বৃক্ষমেলায় প্রথম ১১ দিনে প্রায় ৩০ লাখ ৭ হাজার ১১০ টাকা মূল্যের ২১ হাজার ২৩৭টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিক্রি হয়েছে।
গত ১১ জুলাই থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত এসব চারা বিক্রি হয়। বিক্রি হওয়া চারার মধ্যে রয়েছে ৯৪১টি ঔষধি, ১ হাজার ৭৫৪টি বনজ, ৫ হাজার ৮৪৬টি ফলজ, ৫ হাজার ৫৫১টি ফুল, ৫ হাজার ৬৬৪টি শোভাবর্ধক এবং ১ হাজার ৪৮১টি অন্যান্য প্রজাতির গাছ।
বুধবার খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানের টেনিস গ্রাউন্ডের পাশে আয়োজিত বৃক্ষমেলা ঘুরে দেখা যায়, ফলজ, ফুল ও ঔষধি গাছসহ দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির চারার সমাহার রয়েছে মেলায়। বৃষ্টির মধ্যেও প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী মেলায় আসছেন।
আয়োজকরা জানান, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে জুলাই ও আগস্ট মাসজুড়ে এ মেলা চলবে।
গত ১১ জুলাই পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম মেলার উদ্বোধন করেন। মেলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানান, প্রায় এক দশক ধরে খুলনায় নিয়মিত এ বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, এবারের মেলায় ৬২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ১০টি সরকারি সংস্থা। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
মেলায় ফল ও ফুলের চারার চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ছাদবাগানের উপযোগী গাছের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ রয়েছে। আম, পেয়ারা, স্ট্রবেরি পেয়ারা, লেবু, কাঁঠাল, জাম, আমলকীসহ বিভিন্ন ফলজ গাছের পাশাপাশি বিদেশি জাতের অ্যাভোকাডো, পার্সিমন, রামবুটান, লংগান ও ডুরিয়ানের চারাও পাওয়া যাচ্ছে।
খুলনা নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি এসএম বদরুল আলম রয়েল বলেন, মেলায় ছাদবাগানের উপযোগী দেশি-বিদেশি নানা ধরনের গাছের চারা পাওয়া যাচ্ছে। শুরু থেকেই ক্রেতাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এবং তরুণদের প্রকৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে বৃক্ষমেলার গুরুত্ব রয়েছে।
আব্দুল করিম নার্সারির বিক্রয়কর্মী সাকিব জানান, এ বছর চারার বিক্রি ভালো হচ্ছে। এর মধ্যে আম, স্ট্রবেরি ও পেয়ারা চারার চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
নার্সারি মালিক মো. নিজাম শেখ বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দর্শনার্থী ও ক্রেতার সংখ্যা আরও বাড়বে।
মেলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন উদ্ভিদ প্রজাতিও প্রদর্শন করা হচ্ছে। ম্যানগ্রোভ সিলভিকালচার বিভাগের স্টলে সুন্দরী, খলশি, কাঁকড়া, গর্জন, ধুণ্ডুল ও পশুরসহ বিভিন্ন গাছের নমুনা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে দর্শনার্থীদের তথ্য দেওয়া হচ্ছে।
মেলায় আসা ক্রেতারা জানান, এবার চারার দাম তুলনামূলক কম। ফলজ ও শোভাবর্ধক গাছের পাশাপাশি এলাচ, গোলমরিচ, দারুচিনি, তেজপাতার মতো মসলাজাতীয় গাছের চারাও পাওয়া যাচ্ছে।
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের ডিএফও এ জেড এম হাসানুর রহমান বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার মেলায় আরও বেশি সাড়া পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিক্রিও ভালো হবে বলে প্রত্যাশা রয়েছে।
এসএমএস/এসআ