রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন— এমন একটি গুঞ্জন বুধবার সন্ধ্যা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আলোচনার পর অনেকেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগকে নিশ্চিত ধরে নিলেও, বুধবার রাত পর্যন্ত সরকার বা বঙ্গভবনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগিরই পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। একই পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতার পরিবর্তে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নাম আলোচনায় রয়েছে।
পোস্টটি মুহূর্তেই সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এরপর রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয় এবং বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক ও সরকারি বিভিন্ন সূত্রে যোগাযোগ করা হলে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ সংক্রান্ত এমন কোনো তথ্য তার জানা নেই।
অন্যদিকে বঙ্গভবনের একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির এমন কোনো সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। সূত্রটির দাবি, রাষ্ট্রপতি এ ধরনের কোনো ইঙ্গিতও কাউকে দেননি।
বুধবার (২২ জুলাই) রাত পর্যন্ত সরকার কিংবা বঙ্গভবনের প্রেস উইং থেকেও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত মে মাসে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য যুক্তরাজ্য সফর করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এটিই ছিল তার প্রথম বিদেশ সফর। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে তার হার্টের বাইপাস সার্জারি হয়েছিল।
চিকিৎসকদের পরামর্শে ফলোআপ পরীক্ষার অংশ হিসেবে গত ১২ মে কেমব্রিজের রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে তার এনজিওগ্রাম করা হয়। সে সময় হৃদযন্ত্রের একটি ধমনিতে গুরুতর ব্লক ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টি করে একটি স্টেন্ট বসানো হয়। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকার পর নয় দিন পর তিনি দেশে ফেরেন। পরে বঙ্গভবনের প্রেস বিভাগ তার শারীরিক অবস্থা 'স্থিতিশীল ও সন্তোষজনক' বলে জানিয়েছিল।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এর আগেও দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। গত বছরের ডিসেম্বরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, "আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই।" কেন পদত্যাগের কথা ভাবছেন— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমার ভালো লাগে না।"
সাক্ষাৎকারে তিনি বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশন থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলা এবং বঙ্গভবনের প্রেস উইং প্রত্যাহারের ঘটনায় নিজেকে অপমানিত মনে করার কথাও উল্লেখ করেছিলেন।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতিকে বঙ্গভবনের বাইরে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরু হলে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিরোধী দলের সদস্যরা ওয়াকআউট করেন।
তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে বর্তমানে যে আলোচনা চলছে, তা এখন পর্যন্ত মূলত সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি দাবির ওপর ভিত্তি করে। বুধবার রাত পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সরকারি বা সাংবিধানিক সূত্র থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।