সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সংসদ সদস্যের গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং একটি ভিডিও ফাঁসের সন্দেহকে কেন্দ্র করে তাকে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।
মামলার পর আমিনুর রহমান নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ জুলাই) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের এসআই রাকিবুল হুদা তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ২৪ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সাইফুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
মামলার অপর আসামিরা হলেন— মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)।
মামলার এজাহারে ওবায়দুর রহমান অভিযোগ করেন, তিনি পল্লবীর কালশী এলাকার ‘রোজগার্ডেন টাওয়ার’-এ তার বোনের বাসায় থাকতেন এবং সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন। আত্মীয়তার সূত্রে ওই বাসায় সংসদ সদস্যের যাতায়াত ছিল।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, একপর্যায়ে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগ্নির অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি তিনি জানতে পারেন। বিষয়টি পরিবারকে জানানোর পর তিনি ওই সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন বাদী।
ওবায়দুরের অভিযোগ, সম্প্রতি একটি চক্র সংসদ সদস্য ও ওই তরুণীর কিছু আপত্তিকর ভিডিও সংগ্রহ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। এ ঘটনায় ওবায়দুরকে সন্দেহ করেন গাজী নজরুল ইসলাম। এর জেরে গত ১৪ জুলাই তাকে মারধর ও হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, ওই দিন সকাল ১১টার দিকে আমিনুর রহমান তাকে কৌশলে একটি কক্ষে ডেকে নেন। পরে সেখানে উপস্থিত অন্য আসামিরা তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে আমিনুর রহমান তাকে মাটিতে ফেলে গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
চিৎকার শুনে ওবায়দুরের মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আহত অবস্থায় তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার পর আসামিরা তাকে বিভিন্ন স্থানে হত্যার হুমকি দেন। মামলাটি তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ।
এসআর