জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেছেন, অতিবৃষ্টি, তাপদাহ, লবণাক্ততা ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সমুদ্র উপকূলীয় ও সুন্দরবন অঞ্চলের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে শহরমুখী হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের অন্যতম উপায় হলো ব্যাপক বনায়ন ও বৃক্ষরোপণ।
বুধবার (২৩ জুলাই) সকাল ১১টায় খুলনা নগরীর জাতিসংঘ শিশু পার্কে গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিবেশ সুরক্ষা ও নগর সবুজায়নের লক্ষ্যে নাগরিক ফোরাম-খুলনা নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কেসিসি প্রশাসক নাগরিক ফোরামকে খুলনার একটি জনপ্রিয় সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, নাগরিক সেবার লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। সবুজে সাজাই বাংলাদেশ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় তিনি সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সরকার প্রতিবছর দেশব্যাপী ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে নগরবাসীর প্রতি নিজ নিজ বসতবাড়ির চারপাশ সবুজ ও পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান তিনি। ভবিষ্যতেও নাগরিক ফোরামের সব কার্যক্রমে সিটি কর্পোরেশন পাশে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন।
নাগরিক ফোরাম-খুলনার কো-চেয়ারম্যান সরদার আবু তাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ। এ সময় কেসিসির এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিনসহ নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ সঞ্জিতা রাণী, মো. মঈন উদ্দিন, সাকিল আহমেদ, আনোয়ার হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নাগরিক ফোরাম-খুলনার মহাসচিব ইকবাল হাসান তুহিন।
অনুষ্ঠানে প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ১৬ থেকে ৩১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় রোপণের জন্য নাগরিক ফোরামের ওয়ার্ড কমিটির সদস্যদের মধ্যে ৫০০টি গাছের চারা হস্তান্তর করেন। পরে জাতিসংঘ শিশু পার্কে একটি গাছের চারা রোপণ করেন তিনি। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিগগিরই ১ থেকে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় রোপণের জন্য আরও ৫০০টি গাছের চারা বিতরণ করা হবে।
পরে বৃক্ষরোপণে জনসচেতনতা বাড়াতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।
এর আগে কেসিসি প্রশাসক দৌলতপুর থানাধীন মধ্যডাঙ্গা দারুল উলুম হাফিজিয়া মাদরাসা, মধ্যডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মধ্যডাঙ্গা মেইন রোড ও বকুলতলা মোড় এলাকার পানি নিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিধন ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
এ সময় কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান, কঞ্জারভেন্সি অফিসার মো. অহিদুজ্জামান খান, এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন, আড়ংঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম ফরিদ আখতারসহ কেসিসির কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এসএস/আরএন