পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতার বসতবাড়ি গভীর রাতে খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়ার পর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের কাঁঠালতলী বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, বিষয়টি তদন্তাধীন। এছাড়া এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পায়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি মাধবখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মাধবখালী ইউনিয়ন সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান লাভলুর। স্থানীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে তার স্ত্রী শিল্পী বেগম ও বৃদ্ধা মা বাড়িটিতে বসবাস করতেন। তবে চিকিৎসাজনিত কারণে তারা বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করায় ঘটনার সময় বাড়িটি তালাবদ্ধ ও ফাঁকা ছিল।
মুঠোফোনে কাজী মিজানুর রহমান লাভলু অভিযোগ করে জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরীর অনুসারীরা পরিকল্পিতভাবে তার বাড়িতে হামলা চালায়। তিনি দাবি করেন, গভীর রাতে প্রথমে এক্সকাভেটর দিয়ে পুরো ভবনটি গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। এরপর ঘরে থাকা মূল্যবান মালামাল লুট করে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, খবর পেয়ে প্রশাসনের কিছু সদস্য ঘটনাস্থলে এলেও অজ্ঞাত একটি প্রভাবশালী মহলের ফোন পাওয়ার পর তারা সেখান থেকে চলে যান। তার দাবি, এই হামলার নেতৃত্বে ছিলেন আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ছোট ভাই ও মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহীন চৌধুরী।
অন্যদিকে, লাভলুর স্ত্রী শিল্পী বেগম জানান, চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থানকালে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে তিনি ঘটনার খবর পান। তার ভাষ্য, গভীর রাতে একদল লোক বাড়িতে গিয়ে প্রথমে বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এরপর এক্সকাভেটর দিয়ে বসতঘরটি ভেঙে ফেলে। পরে ঘরে থাকা আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বাড়িতে ফিরে তারা দেখতে পান, পুরো বসতঘর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
ঘটনার সময় লাভলুর ভাই মশিউর রহমান বাবলু কাজী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের দৃশ্য প্রচার করেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কাছে সহায়তা চাইলেও তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
এদিকে, স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলের জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ২০০৩ সালে জমিটি পাবলিক লাইব্রেরির নামে নিবন্ধিত হয় বলে দাবি করা হয়। তবে একটি পক্ষের দাবি, জমির একটি অংশ কাজী মিজানুর রহমান লাভলুর ব্যক্তিগত মালিকানাধীন। অপরদিকে অন্য পক্ষের দাবি, জমির অধিকাংশই সরকারি গণগ্রন্থাগারের সম্পত্তি।
জানা গেছে, জমি উদ্ধারের দাবিতে পটুয়াখালী সরকারি গণগ্রন্থাগারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে প্রশাসনিক তদন্তাধীন রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন বলে জানা গেছে। একইভাবে অভিযুক্ত শাহীন চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির (স্থগিত কমিটি) সভাপতি শাহাবুদ্দিন নান্নু মুন্সী জানান, এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা নেই। কেউ ব্যক্তিগতভাবে অপরাধ করে থাকলে তার দায় দল নেবে না। আমরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতের অন্ধকারে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ও তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এসএ